মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: হামে প্রাণ গেল আরও তিন শিশুর, মোট মৃত্যু ৬৮৬      একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      
দেশজুড়ে
সিলেটে চারটি আসনে এগিয়ে বিএনপি, দুইটিতে ত্রিমুখী লড়াই
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫৪ এএম আপডেট: ০৮.০২.২০২৬ ১২:১১ পিএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে ভোটের মাঠে প্রচার এখন তুঙ্গে। নাওয়া-খাওয়া ভুলে ভোটারের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা। দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতি। ভোট চাওয়ার পাশাপাশি পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, কথার লড়াই—সব মিলিয়ে সরগরম নির্বাচনের মাঠ।

সিলেট জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে বিএনপি ও জামায়াত জোটের মধ্যে মূল লড়াই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অধিকাংশ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও কোথাও কোথাও বিদ্রোহী ও জোটের শরিক প্রার্থীরা লড়াইকে আরও জমিয়ে তুলেছেন। মাঠ পর্যায়ের বিশ্লেষণ বলছে, জেলার ৬টি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি, দুইটিতে ত্রিমুখী লড়াইয়ের ধারণা এখন স্পষ্ট।

সিলেট-১ (সদর ও মহানগর)

সবকটি রাজনৈতিক দলের কাছেই বেশি সিলেট-১ (সদর ও মহানগর) আসনের গুরুত্ব রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত একটি বিশ্বাস রয়েছে—এই আসনে যে দল জয়ী হয়, জাতীয় পর্যায়েও সেই দল সরকার গঠন করে। ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনের ফলাফলে এর বাস্তব প্রতিফলন ঘটেছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ বেশকটি রাজনৈতিক দলের ৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির (ধানের শীষ) ও জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমানের (দাঁড়িপাল্লা) মধ্যে মূল লড়াই হবে। তবে প্রচারণা ও জনসমর্থনে এখন পর্যন্ত বিএনপির খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এগিয়ে রয়েছেন বলে দাবি ভোটারদের। জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমানও প্রচারণা শুরুর পর থেকে বসে নেই। ছুটছেন সমানতালে। দিনরাত ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন ও তরুণ ভোটারদের নজর এবার তার দিকে, এমন আভাস পাওয়া গেছে। সবমিলিয়ে বিএনপির খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সাথে শক্ত লড়াই হবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।

এ ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন (ট্রাক), বাসদের প্রণব জ্যোতি পাল (মই), বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (কাস্তে), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. শামীম মিয়া (আপেল) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) থেকে সঞ্জয় কান্ত দাস (কাঁচি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উঠান বৈঠক, জনসভা ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর)

আসনটি গুম হওয়া বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এখানকার মানুষের কাছে এম ইলিয়াস আলী কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি এক আবেগের নাম। তার নিখোঁজ হওয়ার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও ইলিয়াস পরিবারের প্রতি মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অটুট রয়েছে। এর প্রমাণ মিলেছে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। ইলিয়াস পরিবারের সমর্থনে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গণফোরামের নেতা মোকাব্বির খান।

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লুনার ধারেকাছেও নেই অন্য কোনো প্রার্থী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলীকে (দেওয়াল ঘড়ি)।

এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আমির উদ্দিন (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী (লাঙ্গল) এবং গণফোরামের মো. মুজিবুল হক (উদীয়মান সূর্য) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে তাদের প্রচারণা ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেনি।

সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ)

প্রবাসী অধ্যুষিত এই আসনে মূল লড়াই হবে ধানের শীষ ও রিকশা প্রতীকের মধ্যে। এবারে নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মালিক এবং জামায়াত জোটের শরিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজুর মধ্যে লড়াই হবে এমন ধারণা ভোটারদের।

ধানের শীষের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মালিক তুলনামূলকভাবে পুরোনো ও পরিচিত মুখ। আছে নিজস্ব শক্তিশালী বলয়। ফলে প্রচারণা ও জনসংযোগের দিক থেকে তিনি কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু গহরপুর মাদ্রাসার মুহতামিম এবং প্রখ্যাত আলেম ও বুযুর্গ মাওলানা নুরুদ্দিন গহরপুরী (রহ.)-এর ছেলে। বাবার ধর্মীয় ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার কারণে তিনি ভোটের মাঠে একটি বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি রাজুর প্রচারণাকে দৃশ্যমানভাবে শক্তিশালী করেছে। ফলে ভোটের মাঠে ধানের শীষ বনাম রিকশার এই দ্বন্দ্ব ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

এই আসনে অন্য প্রার্থীরাও মাঠে সক্রিয়। জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আতিকুর রহমান (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী (ফুটবল) ও মইনুল বকর (কম্পিউটার) নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট)

দেশের বৃহত্তম পাথর কোয়ারি ভোলাগঞ্জ, জাফলং, বিছনাকান্দি ও শ্রীপুর এ আসনে অন্তর্ভূক্ত। এ ছাড়াও রয়েছে দেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট। তাই সব রাজনৈতিক দলের কাছে আসনটির গুরুত্ব বেশি। স্থানীয় ভোটর ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ আসনে মূল লড়াই হবে বিএনপি এবং জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে।

এই আসন থেকে এবার প্রার্থী হয়েছেন জনপ্রিয় দুই নেতা। দুজনেরই সাধারণ মানুষের সাথে উঠাবসা রয়েছে। তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিও ছিলেন। রয়েছে আলাদা বলয় ও ভোটব্যাংক। একজন বিএনপির চেয়ারপর্সনের উপদেষ্টা ও সিলেট সিটির সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী (ধানের শীষ), অন্যজন জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন (দাঁড়িপাল্লা)। তারা আগে থেকেই ভোটের মাঠে সক্রিয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অভিজ্ঞতা, জনপ্রিয়তা এবং কৌশলগত কারণে বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরীকে এগিয়ে রাখছেন। তবে পিছিয়ে নেই মো. জয়নাল আবেদীন। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে তৎপরতা চালাচ্ছেন তিনিও।

এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা জাহিদ আহমেদ (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলাম (ট্রাক) ও জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মজিবুর রহমান (লাঙ্গল) প্রতীক নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।

সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট)

সীমান্ত ঘেঁষা দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপি ও জামায়াত কেউই আসনটিতে নিজেদের প্রার্থী দেননি। দুটি দলই জোটের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে (খেজুর গাছ) সমর্থন দিয়েছে। অন্যদিকে খেলাফত মজলিসের মুফতি মোহাম্মদ আব্দুল হাসানকে (দেওয়াল ঘড়ি) সমর্থন দিয়েছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। এছাড়া সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি (বহিষ্কৃত) মামুনুর রশীদ স্বতন্ত্র প্রার্থী (ফুটবল) হয়েছেন।

ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই আসনে খেজুর গাছ, ফুটবল ও দেওয়াল ঘড়ির ত্রিমুখী লড়াই হবে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিজস্ব ভোট ব্যাংক, সামাজিক অবস্থান এবং ধর্মীয় প্রভাব রয়েছে। ফলে এই আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আশা করছেন ভোটাররা। তবে এ আসনে উপমহাদেশের প্রখ্যাত বুযুর্গ ফুলতলী পীরের দরবারের সমর্থন যিনি পাবেন, ফলাফল তার পক্ষেই যাবে বলে ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

এছাড়া প্রচারণায় রয়েছেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মাওলানা মো. বিল্লাল উদ্দিন (হারিকেন) প্রতীক।

সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ)

এই আসনে এবার লড়ছেন পাঁচ প্রার্থী। তবে প্রচারণায় বিএনপির অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এগিয়ে আছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে এমরান আহমদ ও সেলিম উদ্দিনকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফখরুল ইসলামের সাথে লড়তে হবে। ভোটের মাঠে তিনিও ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে উঠেছেন। সবমিলিয়ে এই আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের স্পট সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আলাপকালে ভোটারেরা জানান, শুরু থেকেই এই আসনে মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরীন কোন্দল স্পষ্ট। এমরান মনোনয়ন পাওয়ার দলের একটি অংশ ভেতরে ভেতরে নাখোশ। তারা গা-ছাড়া প্রচারণা চালাচ্ছেন। এছাড়া বিএনপির মিত্রদল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের এক নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। বিপরীতে শুরু থেকেই ঐক্যবদ্ধ জামায়াত জোট। সেলিম উদ্দিনকে বিজয়ী করতে একাট্টা হয়ে তারা কাজ করছে। এসব কারণে জামায়াত জোটের সেলিম উদ্দিনকে এগিয়ে রাখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এছাড়া সাধ্যমতো প্রচার চালাচ্ছেন গণঅধিকার পরিষদের জহিদুর রহমান (ট্রাক) ও জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আবদুন নূর (লাঙ্গল)।

কেকে/এলএ


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close