ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনে শেষ সময়ে জমে উঠেছে নির্বাচনি মাঠ। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রচার-প্রচারণার উত্তাপ। কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা।
তবে এ আসনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভক্তি। বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর কারণে ধানের শীষের ভোট বিভাজনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে ভোটের সমীকরণ দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে এবং নির্বাচনি লড়াই ত্রিমুখী রূপ নিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিদ্রোহীর আগুনে পুড়ছে ধানের শীষ
এ আসনে বিএনপি মনোনীত হেভিওয়েট প্রার্থী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন (ধানের শীষ)। কিন্তু তার প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য কেএম আনোয়ারুল ইসলাম (ঘোড়া)।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে থাকায় ইতোমধ্যে তাকেসহ ছয়জন বিএনপি নেতাকে কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারপরও মাঠে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন তিনি। এতে বিএনপির ভোট দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জামায়াত নিচ্ছে সুযোগ
বিএনপির এই বিভক্তির সুযোগ কাজে লাগাতে মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক আলী আছগার (দাঁড়িপাল্লা)। স্থানীয় পর্যায়ে নীরবে সংগঠিত প্রচারণা চালিয়ে তিনি নিজের অবস্থান মজবুত করছেন বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ধানের শীষ ও ঘোড়ার ভোট বিভক্ত হলে জামায়াতের প্রার্থী বড় সুবিধা পেতে পারেন। ফলে ভোটযুদ্ধ ত্রিমুখী হওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট হচ্ছে।
মোট প্রার্থী ৮ জন
পাবনা-৩ আসনে মোট প্রার্থী রয়েছেন ৮ জন। উল্লেখযোগ্য প্রার্থীরা হলেন— কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন (ধানের শীষ), কেএম আনোয়ারুল ইসলাম (ঘোড়া), অধ্যাপক আলী আছগার (দাঁড়িপাল্লা), মীর নাদিম মোহাম্মদ ডাবলু (লাঙ্গল), হাসানুল ইসলাম রাজা (ট্রাক), আব্দুল খালেক (হাতপাখা), সরদার আশা পারভেজ (উদীয়মান সূর্য), মাহবুবুর রহমান জয় চৌধুরী (একতারা)।
প্রার্থীরা উঠান বৈঠক, গণসংযোগ, পথসভা ও জনসভার মাধ্যমে নিয়মিত ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন।
জটিল সমীকরণে আলোচিত আসন
চলনবিল অধ্যুষিত পাবনা-৩ আসনটি বর্তমানে জেলার সবচেয়ে আলোচিত ও জটিল আসনে পরিণত হয়েছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। দলীয় প্রার্থীকে বহিরাগত আখ্যা দিয়ে দলের একাংশ নেতাকর্মী তাকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কারাগার বা এলাকা ছাড়া থাকায় তাদের সমর্থকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ফলে তারা কোনো প্রার্থীর প্রতি পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছেন না।
একই পরিবারের তিন মেরু রাজনীতি
চাটমোহর উপজেলা বিএনপি পরিবারের একই পরিবারের তিন ভাইবোন তিন মেরু হয়ে কাজ করায় ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। একজন গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীর পক্ষে, আরেকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে এবং বোন ধানের শীষের প্রচারণা চালাচ্ছেন।
শেষ মুহূর্তে ত্রিমুখী লড়াই স্পষ্ট
সব মিলিয়ে ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, পাবনা-৩ আসনে ত্রিমুখী লড়াই আরও স্পষ্ট হচ্ছে। বিএনপির বিভক্তি, জামায়াতের সংগঠিত প্রচারণা এবং আওয়ামী লীগের অনুপস্থিত সমর্থন—সব মিলিয়ে এ আসনের ফলাফল নিয়ে বাড়ছে কৌতূহল।
এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কোন মেরুকে বিজয়ের মুকুট পরিয়ে দেন।
কেকে/এলএ