ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নে মামলার সাক্ষী হওয়ায় ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবুল কালামকে মারধর করেছে মামলার আসামী সোহাগ।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে এই মারধরের ঘটনা ঘটে।
আবুল কালাম অভিযোগ করেন, সোহাগ এলাকায় মাদকবারী হিসেবে পরিচিত। সোহাগ এখন এলাকায় মাদক কারবারী ও ডিস লাইনের ব্যবসায় জড়িত রয়েছে। সোহাগ বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে মাদক ব্যবসা করতো। তখন তাদের সাথে মাদকের টাকা নিয়ে ভাগাভাগি নিয়ে ভাগবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে সে বিদেশে পালিয়ে যায়। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ পালিয়ে যাওয়ার পর আবার দেশে এসে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। সে এখন নিজেকে বিএনপি দাবি করে। সে এলাকার বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। কেউ কিছু বলতে চাইলে তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে। গত কিছুদিন আগে দলিল মেম্বার ফাজিলপুর সভায় আসলে তাকে কিছু সন্ত্রাসীসহ সোহাগ মারধর করে। তখন সে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় সাক্ষী হওয়ায় তাকে তার বাড়ির সামনে এলোপাতাড়ি মারধর করে মারাত্মক জখম করেছে। তাকে কিছু ছদ্মবেশি ব্যক্তি ইন্ধন দিচ্ছেন। তারা বিনিময়ে তার কাছ থেকে কিছু নগদ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক একরাম জানান, তিনি গণসংযোগে থাকা অবস্থায় শুনতে পারেন যে কবির আহম্মদের ছেলে সোহাগ বিএনপি নেতা কালামকে মারধর করে জখম করেছে। তাৎক্ষণিক এসে তাকে বাড়ির সামনে পেয়ে জিজ্ঞেস করেন তুমি কেন কালাম ভাইকে মারধর করেছ। সে নিজেকে বিএনপি দাবি করলে উল্টো প্রশ্ন করা হয় যে কোথায় বিএনপি করে। বিশৃঙ্খলাকারী কখনো বিএনপি করতে পারে না।
তিনি তার আইনগত শাস্তি দাবী করেন।
সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুর রহমান বকুল বলেন, সোহাগ নামের এক মাদক ব্যবসায়ী যুবক ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবুল কালামকে মারধরের খবর পাওয়া গেছে। সোহাগ এলাকায় মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অপরাধে মামলা হয়েছে। সেই মামলার সাক্ষী হওয়ায় কালাম মাদক ব্যবসায়ীর হাতে লাঞ্ছিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সন্ত্রাসী সোহাগকে গ্রেফতারের জোর দাবী জানান তিনি।
বকুল আরো বলেন, দলিলুর রহমানকে আক্রমণের ঘটনায় বোগদাদিয়া পুলিশ ফাঁড়ি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সেই মামলায় কোন তদন্ত না হওয়ায় পুলিশকে দায়ী করেন এই বিএনপি নেতা। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের রাখার জন্য অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য দাবী জানান তিনি।
তিনি বলেন, আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে মাদক ব্যবসায়ী সন্ত্রাসী সোহাগকে গ্রেফতার করা না হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে। পুলিশ নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনেও ব্যর্থ হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা পুলিশ বিভাগের দায়িত্ব।
জানতে চাইলে বোগদাদিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, ‘মারধরের ঘটনায় সোহাগ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে এর আগেও অভিযোগ এসেছে। সে পলাতক থাকায় পুলিশ তাকে খুঁজে পাচ্ছে না। পুলিশ তাকে ধরার জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছে।’
কেকে/এসএএস