হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ–বাহুবল) আসনে নির্বাচনি মাঠে দিন দিন বাড়ছে উত্তাপ। শেষ মুহূর্তে ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীরা প্রয়োগ করছেন নানা কৌশল। উন্নয়নের আশ্বাস, অতীতের সাফল্যের দাবি এবং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি সমালোচনায় সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
এই আসনে মোট ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মূল লড়াই জমে উঠেছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া এবং বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়ার মধ্যে। দু’জনই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভোটারদের কাছে টানতে চালাচ্ছেন ব্যাপক প্রচারণা। উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও পথসভায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
ড. রেজা কিবরিয়া নির্বাচিত হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। অন্যদিকে শেখ সুজাত মিয়া নিজেকে ‘জনগণের প্রার্থী’ হিসেবে তুলে ধরে স্থানীয় সমস্যা ও বাস্তবতার কথা তুলে ধরছেন।
তিনি বলেছেন, “দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার মানুষের পাশে থাকাই তার মূল লক্ষ্য।”
প্রচারণার মাঠে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও সমালোচনাও থেমে নেই। বক্তব্য দিতে গিয়ে কেউ কেউ বিতর্কের মুখে পড়ছেন, যা ভোটারদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করছে। এসব সমালোচনা ও পাল্টা বক্তব্য নির্বাচনি উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
এ আসনের অন্যান্য প্রার্থীরাও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা ভোটের অঙ্কে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, শেষ মুহূর্তে কার পক্ষে ভোটের পাল্লা ঝুঁকবে—তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ভোটারদের ধারণা, যে প্রার্থীই বিজয়ী হন না কেন, তাকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়েই জয় ছিনিয়ে নিতে হবে।
সব মিলিয়ে হবিগঞ্জ-১ আসনের নির্বাচন ঘিরে তৈরি হয়েছে এক জটিল ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিস্থিতি। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায়েই নির্ধারিত হবে কে পাচ্ছেন বিজয়ের হাসি।
হবিগঞ্জ-১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬১ হাজার ২৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৩ হাজার ১৬ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ২৮ হাজার ২৬৮ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৫ জন।
কেকে/এলএ