আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বিষয়ক গণভোটকে কেন্দ্র করে পার্বত্য উপজেলার বান্দরবানের লামায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নির্বাচনের সকল প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে উপজেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বিভিন্ন দুর্গম ও সুগম এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যালট বক্স, ব্যালট পেপারসহ অন্যান্য নির্বাচনি সামগ্রী পাঠানো শুরু হয়েছে।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, লামা উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার সকল ভোটকেন্দ্রে স্বচ্ছ ব্যালট বক্স এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার কেন্দ্রগুলোতে সরঞ্জাম পাঠাতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভোটাররা এবার দুটি ব্যালট পেপারে ভোট দেবেন—সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য সাদা ব্যালট এবং গণভোটের (হ্যাঁ/না) জন্য গোলাপী ব্যালট।
সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পুরো উপজেলায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন করা হয়েছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত।
লামা উপজেলায় মোট ভোটকেন্দ্র ৪২টি এবং ভোটকক্ষ রয়েছে ২২৩টি। এর মধ্যে ৪০টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৮৭,৫৫৪ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪৪,৯২৮ জন এবং নারী ভোটার ৪২,৬২৬ জন। এছাড়া ১,২৭৫ জন সরকারি চাকরিজীবি পোস্টাল ব্যালেটের জন্য আবেদন করেছে, যারা তাদের ব্যালেট কেন্দ্রে পাবেন না।
লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন জানিয়েছেন, “আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। দুর্গম এলাকার কেন্দ্রগুলোতে ইতিমধ্যেই সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া শুরু হয়েছে। ভোটাররা যেন নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।”
কেকে/এলএ