টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল তার নির্বাচনি এলাকাবাসীর জন্য ১৮ দফার ‘জনতার ইশতেহার’ ঘোষণা করেছেন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইশতেহার প্রকাশ করেন তিনি।
ইশতেহার ঘোষণার আগে এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “আজ আমি আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি শুধু প্রার্থী হিসেবে নয়, আপনাদের বন্ধু, আত্মীয়, প্রতিবেশী এবং স্বপ্নসারথি হিসেবে। সখীপুর ও বাসাইল আমাদের গর্বের মাটি। এখানকার প্রতিটি পথ, মাঠ ও জনপদ আমাদের জীবনের অংশ। আপনাদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকেই আমি এই ইশতেহারে স্থান দিয়েছি।”
তিনি জানান, দুই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা মিলিয়ে ১৮টি জনপদের চাহিদা ও সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই এ ১৮ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে। কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনর্নির্মাণ, যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন, তাঁতশিল্প ও কৃষিপণ্যের সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল বলেন, “এই ১৮ দফা শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, এটি জনতার প্রত্যাশার প্রতিফলন। আমি ভোট চাই পরিবর্তনের জন্য, উন্নয়নের জন্য, একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ সখীপুর-বাসাইল গড়ার জন্য।”
১৮ দফা কর্মসূচির উল্লেখযোগ্য বিষয়সমূহ:
১. গোড়াই থেকে কাকরাইদ সড়ক এবং টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক (ভায়া বাসাইল-সখীপুর) চার লেনে উন্নীতকরণ।
২. সখীপুর ও বাসাইল পৌরসভাকে নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন।
৩. সরকারি দপ্তরে ডিজিটাল সেবা চালু করে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা।
৪. মাদক, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ।
৫. ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনর্নির্মাণ ও মেধাবী-দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান।
৬. বাসাইলের পুংলী নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী তীর সংরক্ষণ প্রকল্প।
৭. কাঁচা সড়ক পাকাকরণ, নতুন সড়ক নির্মাণ ও জরাজীর্ণ সড়ক সংস্কার।
৮. বাজার ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ।
৯. তাঁতশিল্প টিকিয়ে রাখতে সহজ ঋণ, প্রযুক্তি সহায়তা ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ।
১০. স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আধুনিকায়ন ও ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স সেবা।
১১. যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নে দুটি ‘ইউথ স্কিল ট্রেনিং সেন্টার’ স্থাপন।
১২. সরকারি বরাদ্দ, ব্যক্তিগত বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব প্রকাশে উপজেলা পরিষদে স্বচ্ছতা বোর্ড স্থাপন।
তিনি আরও বলেন, “আমি আকাশছোঁয়া প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি না, মাটির কাছাকাছি থেকে কাজ করার অঙ্গীকার করছি। হরিণ মার্কায় ভোট দিয়ে নিজের এলাকার মানুষের ওপর আস্থা রাখুন।”
ইশতেহার ঘোষণার মাধ্যমে টাঙ্গাইল-৮ আসনের নির্বাচনি মাঠে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল মনে করছে।
কেকে/এলএ