নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশজুড়ে নৈরাজ্য ও জুলুমতন্ত্র শুরু হয়েছে অভিযোগ তুলে তা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সরে না এলে বিএনপিকে শেখ হাসিনার পরিণতির কথা স্মরণ রাখতে হবে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীতে বিএনপির ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ প্রতিবাদে এনসিপি আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সার্বভৌমত্বের পক্ষে এনসিপি জনগণের কাছে ম্যান্ডেট চেয়েছিল এবং জনগণ সেই ম্যান্ডেট দিয়েছে। তারা সেই ম্যান্ডেটের সম্মান রক্ষা করবে বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যদি বাংলাদেশে কোনো সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসেন, তাহলে সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা উচিত কি না—তা ভেবে দেখতে হবে।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, শপথ গ্রহণের আগেই দেশের কিছু গণমাধ্যম বিএনপির প্রতি নমনীয় আচরণ করছে। তিনি অভিযোগ করেন, এক সাংবাদিক নাকি আগেই জানতে চেয়েছেন ‘অভয় দিলে’ প্রশ্ন করবেন কি না। তার দাবি, অতীতে যে উপাদানগুলো শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিবাদী করে তুলেছিল, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
বক্তব্যে ১১ দলীয় জোটের নারী সমর্থকদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগও তোলেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, এনসিপি ও ১১ দলীয় জোটকে সমর্থন দেওয়ায় বিভিন্ন স্থানে তাদের নারী সমর্থকদের ধর্ষণ, ধর্ষণের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের ৪৬ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে ভোট দেয়নি। এই জনগোষ্ঠী—বিশেষ করে নারী ও তরুণদের—বাদ দিয়ে বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব নয়। দমন-পীড়নের মাধ্যমে কেউ যদি মাফিয়াতন্ত্র বা ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়, তাহলে তাদের সামনে শেখ হাসিনার উদাহরণ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়েও অভিযোগ তুলে আসিফ মাহমুদ বলেন, নির্বাচনের আগে থেকেই প্রশাসনসহ বিভিন্ন পক্ষের ভূমিকার কারণে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হয়েছে। ভোটের দিন দিনের বেলায় মোটামুটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলেও রাতে ভোটের ফলাফলে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, ঢাকা-৮ আসনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ সারাদেশে অন্তত ৫০ জন প্রার্থীকে পরাজিত করা হয়েছে।
বিএনপি নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, কেউ কেউ শপথ নেওয়ার পর ‘দেখে নেওয়া’র হুমকি দিচ্ছেন। এ বিষয়ে শেখ হাসিনার পরিণতি থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের কাছে নির্বাচন-পরবর্তী হামলা, লুটপাট ও ধর্ষণের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
পরিশেষে তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জনকল্যাণে কাজ করাই প্রত্যাশা—জুলুমতন্ত্রের শিকার মানুষের অভিশাপ নিয়ে দেশ শাসনের স্বপ্ন দেখা উচিত নয়।
কেকে/এমএফ