নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ আব্দুল আজিজকে কৃষি অথবা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের মতে, কৃষি ও মৎস্যসম্পদে সমৃদ্ধ চলনবিল অধ্যুষিত এই অঞ্চলের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে একজন অভিজ্ঞ, সৎ ও বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত নেতৃত্ব এখন সময়ের দাবি।
স্থানীয়দের অভিমত, দীর্ঘদিন ধরেই এ অঞ্চল দেশের খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের ছোঁয়া পুরোপুরি পৌঁছায়নি। কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক শিল্পায়ন, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং উন্নত বাজারজাতকরণ কাঠামো গড়ে তোলা গেলে কৃষক ও মৎস্যজীবীদের আয় যেমন বাড়বে, তেমনি সৃষ্টি হবে হাজার হাজার মানুষের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ।
নাটোর-৪ আসন ঐতিহ্যবাহী চলনবিল অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। দেশের অন্যতম বৃহৎ এই জলাভূমিকে কেন্দ্র করে ইরি, বোরো ও আমন ধান, রসুন, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বিপুল পরিমাণে উৎপাদিত হয়। স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ অঞ্চল প্রতিবছর জাতীয় খাদ্য চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ করে থাকে।
একই সঙ্গে বিস্তীর্ণ জলাভূমি ও প্রাকৃতিক জলাশয়ের কারণে মাছ উৎপাদনেও চলনবিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর বর্তমানে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান মাছ উৎপাদন ও সরবরাহকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। কিন্তু প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি, সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে এ সম্ভাবনার পূর্ণ সদ্ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না।
বড়াইগ্রাম উপজেলার কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, “আমরা বছরের পর বছর খাদ্য উৎপাদনে অবদান রাখছি। কিন্তু আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেক সময় লোকসানের মুখে পড়তে হয়। এমপি আব্দুল আজিজ সাহেব মন্ত্রী হলে আমাদের সমস্যাগুলো জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব পাবে বলে বিশ্বাস করি।”
গুরুদাসপুরের নাজিরপুর এলাকার মৎস্যচাষি ফরিদুল ইসলাম বলেন, “চলনবিলকে কেন্দ্র করে মাছ উৎপাদনের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও বাজার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতায় আমরা কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছি না। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলে আব্দুল আজিজ সাহেব এ খাতে কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ নিতে পারবেন।”
বড়াইগ্রামের বনপাড়া এলাকার শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী রফিকুল ইসলাম বলেন, “আব্দুল আজিজ সাহেব দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাস্তবতা ও চাহিদা সম্পর্কে তার সুস্পষ্ট ধারণা রয়েছে। তিনি মন্ত্রী হলে কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।”
বড়াইগ্রাম কেন্দ্রীয় প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদুল হাসান মেমন বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছরে বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুরের কৃষিতে যথাযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। কিন্তু বাংলাদেশের শস্যভান্ডারখ্যাত চলনবিলকে আধুনিক কৃষিনির্ভর অঞ্চলে রূপান্তর করা আলহাজ আব্দুল আজিজের হাত ধরেই সম্ভব বলে আমরা মনে করি।”
এদিকে সংসদ সদস্য আলহাজ আব্দুল আজিজ বলেন, “আমি সবসময় নিজেকে দলের একজন কর্মী হিসেবেই মনে করি। দল ও নেতৃত্ব যেখানে দায়িত্ব দেবেন, সেখানেই নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত আছি। দল যদি মনে করে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যদি চান, তাহলে কৃষি কিংবা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলে দেশের কৃষক, মৎস্যজীবী এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করব।”
তিনি আরও বলেন, “চলনবিল অধ্যুষিত নাটোর-৪ আসন কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনের অপার সম্ভাবনাময় অঞ্চল। এখানকার কৃষক ও মৎস্যচাষিদের সমস্যা, সম্ভাবনা ও বাস্তবতা সম্পর্কে আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। দায়িত্ব পেলে আধুনিক প্রযুক্তি, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই খাতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করব।”
তিনি উল্লেখ করেন, “দলের কঠিন সময়গুলোতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। ভবিষ্যতেও দলের নির্দেশনা অনুযায়ী মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যেতে চাই।”
দলীয় সূত্র জানায়, আলহাজ আব্দুল আজিজ নাটোর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়েও তিনি দলীয় আদর্শে অবিচল থেকে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন সুসংহতকরণ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, কৃষি ও মৎস্যসম্পদনির্ভর এই অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সরাসরি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। তারা বিএনপির কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আলহাজ আব্দুল আজিজকে কৃষি অথবা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যেকোনো একটির দায়িত্ব প্রদান করা হলে তা এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সহায়ক হবে এবং জাতীয় উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
কেকে/এলএ