রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ ধামে শিবচতুর্দশী তিথি ও মেলা শুরু।
সীতাকুণ্ডে ৫০ মঠ-মন্দিরে ১৫ লাখ পুন্যার্থীর সমাগম হবে এবার। তবে মেলা আসে মেলা যায় গহীন পাহাড়ের সরু বিপজ্জনক পথগুলো তেমনটা পরিবর্তন হয় না। বিশেষ করে বীরূপাক্ষ হয়ে চন্দ্রনাথ ধামে যাওয়ার যে ওয়াই সংযোগ রয়েছে যেখানটাতে একটি ঝর্ণা দেখা যায়, সেই ঝর্ণা থেকে বাম দিকে যে পথটি বীরূপাক্ষ গেছে সেই পথটিই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায় ১২শ' ফুট উঁচুতে পাহাড় চূড়ায় উঠতে হলে এই পথ বেয়েই যেতে হয়। এরপরে ধামে উঠার আগে বীরূপাক্ষ ও চন্দ্রনাথ ধামের মাঝামাঝি রাস্তাটিও ঝুঁকিপূর্ণ। আর এভাবে চন্দ্রনাথ মন্দির, স্বয়ম্ভুনাথ মন্দির, বীরূপাক্ষ মন্দিরে শিবের মন্দির দর্শন করবেন পুণ্যার্থীরা।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ ধাম তীর্থে রোববার থেকে ঐতিহ্যবাহী শিব চতুর্দশী তিথি ও মেলা শুরু হচ্ছে। সীতাকুণ্ড শংকর মঠ ও মিশন প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন সীতাকুণ্ড শংকর মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী তপনানন্দ গিরি মহারাজ। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তীর্থযাত্রীরা আসতে শুরু করেছেন।
রোববার শিব চতুর্দশী তিথি বিকাল ৫টা ৪ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে শুরু হয়ে সোমবার বিকেল ৫টা ৩৪ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। মন্দিরে যাওয়ার আগে ব্যাসকুণ্ডে স্নান করেন ভক্তরা। তারপর তারা পাহাড় চূড়ায় পূজা ও শিব স্নানে যোগ দিবেন।
প্রতিবছর ফাল্গুন মাসের শিব চতুর্দশী তিথিতে (শিবরাত্রি) চন্দ্রনাথ ধামে তীর্থযাত্রীদের তিনদিনের এ মেলা বসে। এবারের মেলায় প্রায় ১৫ লাখ তীর্থযাত্রীর সমাগম হবে বলে ধারণা করছেন আয়োজকরা। মেলা উপলক্ষে প্রশাসন ও মেলা কমিটির
সমন্বয়ে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
মেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নেওয়া হচ্ছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তীর্থযাত্রা ও মেলাকে কেন্দ্র করে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশ-বিদেশ থেকে দর্শনার্থীরা সীতাকুণ্ডে আসছেন। মেলায় প্রতিবছর ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সাধু-সন্ন্যাসী ও দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে। কয়েকশ' বছরের প্রাচীন এই মেলাকে কেন্দ্ৰ করে প্রতিবছর লাখ লাখ ভক্তের আগমন ঘটে।
সবচেয়ে বৃহৎ এ তীর্থভূমি জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে মহামানবের মিলন তীর্থে পরিণত হয়। ফলে এই মেলার নিরাপত্তা রক্ষায়
প্রশাসনও যথেষ্ট তৎপর থাকে।
এদিকে মেলায় স্টল তৈরির কাজ মোটামুটি শেষ। পাহাড়ের পাদদেশ থেকে চন্দ্রনাথ মন্দির পর্যন্ত লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তাসহ মেলার যাবতীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেলা কমিটি।
আয়োজকরা জানান, সারাবিশ্বের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে চন্দ্রনাথ ধাম একটি পুণ্যতীর্থ পীঠ। আনুমানিক ৩০০ বছর আগের ফাল্গুন মাসের শিবচতুর্দশী তিথিতে (শিবরাত্রি) চন্দ্রনাথ ধামকে ঘিরে শুরু হয় তিন দিনব্যাপী শিবচতুর্দশী মেলা। তখন থেকে এ মেলাকে ঘিরে দেশ-বিদেশের লাখো পুণ্যার্থী সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট ওপরের পথ হেঁটে কলিযুগের মহাতীর্থ খ্যাত এ চন্দ্রনাথ ধাম দর্শনের পাশাপাশি শিবরাত্রিতে দেবাদিদেব মহাদেবের পূজা-অর্চনা করেন।
এ ছাড়া মেলার চতুর্দশী তিথিতে সনাতনী পুণ্যার্থীরা ব্যাস কুণ্ডে স্নান-তর্পণ, গয়াকুণ্ডে পিণ্ডদান করেন। সীতাকুণ্ডে থাকা অন্তত ৫০টি মঠ-মন্দির পরিক্রমা করবেন তারা।
ধর্মীয় এ মেলাকে ঘিরে বসে তৈজসপত্র, পাঠ্যপুস্তক, খাবারের দোকান, খেলনা, আসবাবপত্রসহ নানা পণ্যের দোকান। মেলায় আগত পুণ্যার্থীরা ধর্মীয় আচার শেষ করে কেনাকাটা করে বাড়ি ফেরেন।
অন্যদিকে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহিনুল ইসলাম জানান, শিবচতুর্দশী মেলা উপলক্ষে এবার মোট ৬০০ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। মেলায় জনসমাগম গতবারের তুলনায় বেশি হবে ধরে নিয়েই এই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, মেলা কেন্দ্রিক সকল প্রস্তুতি আমরা সম্পন্ন করেছি। সকলে মিলে একটি সুন্দর-সুষ্ঠু মেলা সম্পন্ন করতে মেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবরকমের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কেকে/বি