সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬,
১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না : ট্রাম্প      নতুন নীতিমালায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চালু      মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ      ঢাবিতে ভর্তি আবেদন ১১ নভেম্বর থেকে, পরীক্ষা শুরু ৫ ডিসেম্বর      সব বেসরকারি দাখিল-আলিম মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটি বাতিল      ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৭০ টাকা      ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু      
দেশজুড়ে
খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে সাতক্ষীরা উপকূলের জেলেদের
ইব্রাহিম খলিল, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫০ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা চলছে। নিষেধাজ্ঞার দেড় মাস পার হলেও সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলাসহ উপকূলীয় এলাকার হাজারো জেলে পরিবারের ঘরে এখন শুধুই হাহাকার। জীবিকার প্রধান উৎস বন্ধ থাকায় অনেকের চুলায় নিয়মিত হাঁড়ি চড়ছে না। ঋণের বোঝা আর পেটের দায়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন উপকূলের জেলেরা।

সূত্র জানায়, কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুমে উৎপাদন বৃদ্ধি ও বনজ সম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে বন বিভাগ প্রতি বছরের মত এবারও জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ নিষিদ্ধ করেছে। 

নিয়ম অনুযায়ী, বনের নদী-খালে ঢুকতে পারছেন না জেলেরা। 

বন বিভাগের মতে, এই ত্যাগের ফলে ভবিষ্যতে কাঁকড়ার উৎপাদন বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে জেলেরা লাভবান হবেন।

কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। বিকল্প আয়ের পথ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন শ্যামনগর, কয়রা ও আশাশুনি উপজেলার জেলেরা।

গাবুরা এলাকার জেলে জামাল মোল্লা ও বুড়িগোয়ালিনী এলাকার হাসন সরদার বলেন, ‘দেড় মাস ধরে নদী-খালে নামতে পারছি না। হাতে কাজ নেই, ঘরে চাল নেই। ধারদেনা করে কয়েক দিন চললেও এখন এনজিওর ঋণের কিস্তি আর বাজারের খরচ মেলাতে হিমশিম খাচ্ছি।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি সহায়তার আশ্বাস পাওয়া গেলেও অনেক জেলের কাছে এখনও তা পৌঁছায়নি। সাহায্য হিসেবে চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সময়মত পেলে হয়তো তাদের এই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হত না।

উপকূলীয় এলাকার সুন্দরবন রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক আশেক-ই-ইলাহি বলেন, ‘সুন্দরবন রক্ষা ও প্রাণিজ সম্পদ বৃদ্ধিতে নিষেধাজ্ঞা জরুরি, তবে এ দীর্ঘ সময়ে জেলেদের জন্য বিশেষ ভিজিএফ কার্ড বা বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা উচিত। যথাযথ প্রণোদনা না থাকলে জেলেরা পেটের দায়ে আইন ভাঙতে প্রলুব্ধ হতে পারেন, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে।’

নিষেধাজ্ঞার বাকি সময়টুকু কীভাবে পার হবে- এ চিন্তায় এখন দিশেহারা সুন্দরবন-নির্ভর হাজারো পরিবার। 

উপকূলবাসীর দাবি, শুধু বন রক্ষা করলেই হবে না, সেই বনকে কেন্দ্র করে বেঁচে থাকা মানুষগুলোর পেটের অন্ন সংস্থানেও সরকারকে টেকসই ব্যবস্থা নিতে হবে।

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  খেয়ে না খেয়ে   দিন কাটছে   সাতক্ষীরা উপকূল   জেলে  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close