শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় মাছ ধরার অপবাদ দিয়ে সেলিম পাইক (৩২) নামের যুবককে গাছের ডাল ও বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাছের ঘেরের মালিক ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনার দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে ভিডিওগুলো ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
আহত সেলিম পাইক উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের ইকুরী এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম মৃত মতলব আলী পাইক।
অভিযুক্ত শাহিন মাদবর (৩৮) শরীয়তপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পালং এলাকার অধিবাসী। তিনি মাছের ঘের ব্যবসায়ী ও শরীয়তপুর জেলা আন্তঃপরিবহন মালিক গ্রুপের সাংগঠনিক সম্পাদক।
ভাইরাল হওয়া ৪৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি সেলিম পাইককে দুই হাত ধরে মাছের ঘেরের মাঝখান থেকে টেনে পাড়ে তোলেন। পরে একজন তার হাত ধরে রাখেন এবং আরও দুইজন গাছের ডাল দিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকেন। এ সময় সেলিম জোরে জোরে ‘বাবারে, বাবারে’ বলে চিৎকার করছিলেন।
আরেকটি ১৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, সেলিমের হাত রশি দিয়ে বাঁধা। ঘেরের মালিক শাহিন মাদবর মোটা শুকনো ডাল দিয়ে তার দুই পায়ে সজোরে আঘাত করছেন। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরও তিনজন নির্বিকারভাবে ঘটনাটি দেখছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রোববার ভোরে সেলিম পাইককে মারধর করে পা ভেঙে ইকুরী এলাকায় মাটিতে ফেলে রাখা হয়। তার অবস্থা গুরুতর দেখে পরে অভিযুক্ত শাহিন মাদবর ও তার লোকজনই সেলিমকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করেন।
ইকুরী এলাকার বাসিন্দা সোহরাব মোল্লা বলেন, ‘ফজরের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দেখি কয়েকজন লোক পুকুর থেকে এক যুবককে ধরে এনে মারছে। পরে আবার ফিরে এসে দেখি একইভাবে তাকে পেটানো হচ্ছে। এটা খুবই অমানবিক।’
শাহিন মাদবর মারধরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘চার মাস আগে সেলিমসহ সাতজন আমার ঘেরের মাছ চুরি করেছে। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করেছি। প্রায় ৭০ লাখ টাকার মাছ নিয়ে গেছে তারা। রোববার ভোরে আবার ছয়জন লোকসহ জাল ফেলতে আসে। আমার লোকজনকে দা দিয়ে ধাওয়া দেয় এবং এক পাহারাদারকে আহত করে। পরে ধাওয়া দিলে ছয়জন পালিয়ে যায়, সেলিম ধরা পড়ে।’
পিটুনির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঘের আমার—আমি পিটাবো না, পিটাবে কে!’
অন্যদিকে আহত সেলিম পাইক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি মাছ চুরি করিনি। মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাকে পিটিয়ে পা ভেঙে দিয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, ‘ঘটনার বিষয়টি শুনেছি। মাছ চোর সন্দেহে ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে। তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।’
কেকে/এমএ