মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: হামে প্রাণ গেল আরও তিন শিশুর, মোট মৃত্যু ৬৮৬      একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ : দেশ গঠনে জোর দিন
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:০৮ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

জুলাই অভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় দেশের একাদশ প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুই দশক পর আবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিল বিএনপি। আর তিন দশক পর নতুন একজন রাজনীতিবিদকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেল বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে মন্ত্রিসভার মোট ৪৯ জন সদস্যও শপথ গ্রহণ করেন। 

দীর্ঘকাল পরে একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নবগঠিত এই সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। সেই প্রত্যাশা পূরণই বিএনপি সরকারের প্রধানতম চ্যালেঞ্জ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সই হওয়া বিভিন্ন চুক্তি, সংস্কার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার, গণপরিষদ, উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতিসহ আরও অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। ফলে নতুন যে সরকার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে তাদের চ্যালেঞ্জগুলো সাধারণভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা নতুন একটি সরকারের চ্যালেঞ্জের মতো নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এই চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলাই দেশ গঠনের একমাত্র পথ। 

এসব চ্যালেঞ্জের বাইরেও বিএনপির বড় একটি চ্যালেঞ্জ হলো দলের পুনর্গঠন, দলকে গোছানো বা নিয়ন্ত্রণে রাখাই হবে বিএনপি সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। দলটি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকায় তৃণমূলে তাদের অনেক নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংহতিময় অবস্থান নেই। এর বাইরেও তাদের মধ্যে নানা ধরনের প্রত্যাশা আছে। সেই প্রত্যাশা তারা এখন পূরণ করতে চাইবে ফলে নতুন সরকারের দেশ গঠনে একটা বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলীয় অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও ভারসাম্য রক্ষা করা। 

দলের বাইরেও দেশ গঠনে প্রথম কাজ হওয়া উচিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা। নিরাপত্তা না থাকলে অর্থনীতি সচল হয় না, বিনিয়োগ আসে না, মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও স্বস্তি ফিরে আসে না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে আস্থার সম্পর্ক পুনর্গঠন ছাড়া এটি সম্ভব নয়। পেশাদারত্বকে অগ্রাধিকার দিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। এতে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে। 

মূল্যস্ফীতি কমানো, বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করা, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে সমন্বিতভাবে। শিল্প খাতে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি, রপ্তানি বৈচিত্র্য এবং প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ানোকে একই সঙ্গে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও সহজীকরণ আনলে রাজস্ব বাড়বে এবং বাজেট ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য তৈরি হবে।

ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফেরানো একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তও বটে। ঋণখেলাপি ও আর্থিক অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নিলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে না। এখানে স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বিচারিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে হবে, যাতে আর্থিক অপরাধের বিচার দ্রুত হয় এবং দায়বদ্ধতা তৈরি হয়।

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাব থেকে বের করে পেশাদার কাঠামোয় ফিরিয়ে আনতে হবে। এতে সরকারি সেবার মান বাড়বে এবং রাষ্ট্রের সক্ষমতা বাড়বে। তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি শক্ত ভিত্তি পাবে।

রাজনৈতিক পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। সহাবস্থান ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির বার্তা বাস্তবে প্রতিফলিত না হলে বিভাজন বাড়বে। এখানে তারেক রহমান ও দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে উদারতা, সংলাপ ও সহনশীলতার পথ দেখাতে হবে। বিরোধী মত ও নাগরিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে পারলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরি হবে। একই সঙ্গে সুশাসনের প্রশ্নটি কেন্দ্রীয় হয়ে উঠবে। 

রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করা, দুর্নীতির বলয় ভাঙা এবং নাগরিক অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আসবে না। এ বিষয়ে নাগরিক সমাজের পরামর্শ ও পর্যবেক্ষণ কাজে লাগাতে পারলে নীতি নির্ধারণ আরও বাস্তবভিত্তিক হবে। এই প্রসঙ্গে বদিউল আলম মজুমদারের মতো ব্যক্তিদের মতামত ও গবেষণা কাজে লাগানো যেতে পারে।

পররাষ্ট্রনীতিতেও ভারসাম্য দরকার। আন্তর্জাতিক চাপ ও সম্পর্কের বাস্তবতা মাথায় রেখে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ক্ষমতা গ্রহণের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয় প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ফারাক কমানো। মানুষ দ্রুত পরিবর্তন দেখতে চায়, কিন্তু রাষ্ট্র বদলাতে সময় লাগে। তাই স্বচ্ছ পরিকল্পনা, ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত জবাবদিহির মাধ্যমে এগোতে পারলে সরকার মানুষের আস্থা ধরে রাখতে পারবে। ঐতিহাসিক বিজয় তখনই অর্থবহ হবে, যখন তা স্থায়ী সংস্কার, স্থিতিশীল অর্থনীতি এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় রূপ নেবে।

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  নতুন সরকারের শপথ   দেশ গঠনে জোর  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close