পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে নওগাঁয় জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে সুলভ মূল্যে দুধ ও ডিম বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের পার-নওগাঁ প্রাণিসম্পদ দপ্তরের চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সাংসদ জাহিদুল ইসলাম ধলু এবং সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহফুজার রহমান।
রমজানের দুই দিন আগে থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ঊর্ধ্বগতি। দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। চাহিদামতো পণ্য কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। খোলা বাজারে ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকা হালি এবং দুধ প্রায় ১০০ টাকা লিটার। এছাড়া সবধরণের মুরগিতে প্রকারভেদে ২০-৪০ টাকা বেড়েছে। দাম বেড়ে পোল্ট্রি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা কেজিতে। গরুর মাংস ৭৫০ টাকা কেজি। সবজিতেও বেড়েছে কেজিতে ৫-১০ টাকা পর্যন্ত।
তবে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি কার্যক্রম চালু হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জন্য অনেকটা সুবিধা হবে।
শহরের রিকশাচালক সুলতান বলেন, ‘রোজার আগে থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় সবধরণের জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। কয়েক দিন আগেও দুধ ৫০-৬০ টাকা লিটার বিক্রি হতো। এখন তা ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিমের দাম তুলনামূলক কম মনে হচ্ছে। তারপরও প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে বাজারের তুলনায় একটু কম দামে ২ হালি ডিম কিনতে পারলাম। এটা দিয়ে দুইদিন চলে যাবে। অন্তত রমজান মাসে যদি সবধরণের পণ্যের দাম কম থাকতো, তাহলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সুবিধা হতো।’
মাহফুজার রহমান বলেন, ‘রমজানের প্রথম দিন ২০০ লিটার দুধ ও ১৫০০ পিস ডিম বিক্রি হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ভাবে দ্বিতীয় দিন বিক্রি শুরু হলো। প্রান্তিক পর্যায়ে নিম্নবিত্ত একজন ক্রেতা সুলভ মূল্যে দুই হালি ডিম ২৮ টাকা ও এক লিটার দুধ ৭০ টাকায় কিনতে পারবেন। আগামী ২৫ রমজান পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে জেলা প্রাণিসম্পদ চত্বরে ২০০ লিটার দুধ ও ১৫০০ পিচ ডিম বিক্রি করা হবে। এছাড়াও আগামীকাল শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) থেকে সপ্তাহে দুই দিন সুলভ মূল্যে গরুর মাংস বিক্রি করা হবে। যেসব খামারি রয়েছে, তারা মূলত দুধ, ডিম ও মাংস সরবরাহ করবে। পর্যায়ক্রমে পুরো জেলায় কার্যক্রমটি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
জাহিদুল ইসলাম ধলু বলেন, ‘তৃণমূল ও প্রান্তিক পর্যায়ে জনগোষ্ঠীর আমিষের ঘাটতি রয়েছে। সুলভ মূল্যে পণ্য পাওয়ায় তাদের জন্য অনেকটা সহজ হবে। এতে তাদের আমিষের চাহিদা পূরণ হবে। গ্রাম পর্যায়েও এই উদ্যোগ চালু করা হবে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জয়ব্রত পাল ও সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম।
কেকে/এসএ