কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার ব্যস্ত বাণিজ্যকেন্দ্র মানিকারচর বাজার। কিন্তু বাজারের ভেতর ও দুই পাশের ফুটপাত দখল করে অস্থায়ী দোকান বসানো এবং সেখান থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে বাজার কমিটির বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফুটপাতের পুরো অংশজুড়ে দোকান বসানো হয়েছে। ফলে মূল সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়েছে। একটি রিকশা বা ভ্যান থামলেই তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। পথচারীদের অনেকেই বাধ্য হয়ে যানবাহনের মাঝ দিয়ে চলাচল করছেন।
ফুটপাতে বসা একজন বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এখানে দোকান বসাতে হলে প্রতিদিন নির্দিষ্ট হারে ২৫০ টাকা দিতে হয়। বাজার কমিটির ‘শুক্কুর’ নামে এক ব্যক্তি এসে নিয়মিত সেই অর্থ সংগ্রহ করেন বলে তিনি দাবি করেন।
এ অবস্থায় প্রশ্ন আরও জোরালো-বাজার ইজারা দেওয়া হলেও সরকারি সড়ক ও ফুটপাত কি সত্যিই সেই ইজারার আওতায় পড়ে? ফুটপাত কোনো ব্যক্তি বা কমিটির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য নির্ধারিত সরকারি স্থান। সেই কারণে সেখানে বসার বিনিময়ে আদায় করা অর্থকে ‘ভাড়া’ বলা যৌক্তিক নয়; বাস্তবে এটি কার্যত চাঁদা আদায়ের সামিল বলেই মনে করছেন অনেকে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠে-বাজার ইজারার সীমা কোথায়, আর সরকারি সড়কের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ কার হাতে?
মাঝেমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বা সমালোচনা বাড়লে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়। কিন্তু জরিমানার অঙ্ক সাধারণত ২০০ বা ৫০০ টাকায় সীমাবদ্ধ থাকে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দৈনিক আদায়ের তুলনায় এই জরিমানা সামান্য হওয়ায় কয়েক দিনের মধ্যেই আগের চিত্র ফিরে আসে। ফলে প্রশ্ন থেকে যায়-এই অভিযান কি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য, নাকি কেবল সাময়িক চাপ প্রশমনের একটি প্রশাসনিক কৌশল?
এদিকে বাজারের ইজারাদার কুসুম ভূঁইয়ার সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমৃতা শারলীন রাজ্জাকের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী আক্তার কিছুদিন পূর্বে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় জানান, অফিস সময়ের মধ্যে যোগাযোগ করতে। ব্যক্তিগত কারণে অফিসের পর বক্তব্য দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। যার কারণে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে বিষয়টি যদি অত্যন্ত জরুরি হয়, সেক্ষেত্রে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করলে তিনি তার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন বলেও জানান।
উল্লেখ্য, বিষয়টি সরাসরি উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে আলাদাভাবে যোগাযোগ করা হয়নি।
কেকে/এলএ