রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় এক চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তারের পর এলাকা ঘুরিয়ে বাসিন্দাদের দেখিয়েছে পুলিশ। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অভিযুক্তের চাঁদা চাওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
চিহৃিত চাঁদাবাজ ফারুক ওরফে কালা ফারুককে গ্রেপ্তারের পর পুরো এলাকা ঘুরে মাইকিং করে বাসিন্দাদের দেখিয়েছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার ফারুক যেসব দোকানপাট থেকে চাঁদা চেয়ে হুমকি দিয়েছিলো, সেসব দোকানে দোকানে চাঁদাবাজকে ঘুরিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, ফারুক নামে শ্রমিকদলের বহিস্কৃত নেতা এ চাঁদাবাজের কারণে বসিলা সিটি হাউজিং ও বসিলা ৪০ ফিট এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। আজকে পুলিশ একটি প্রশংসনীয় কাজ করেছে। তাকে গ্রেপ্তারের পর পুরো এলাকা ঘুরিয়ে মাইকিং করে স্থানীয়দের সামনে নিয়ে যায় পুলিশ। পুলিশের এমন কাজে এলাকাবাসী প্রশংসা করছে।
স্থানীয়রা বলেন, শুধু ফারুক নয়, এ রকম অনেক চিহ্নিত চাঁদাবাজ রয়েছে মোহাম্মদপুরে। তাদেরকেও গ্রেপ্তার করা উচিত, তাহলে এলাকাটিতে শান্তি ফিরে আসবে।
এদিকে, মোহাম্মদপুর এলাকার বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বসিলা ৪০ ফিট এলাকা ও সিটি হাউজিং এলাকায় কয়েকটি মোটরসাইকেলসহ ৮-১০ জনের একটি চাঁদাবাজ গ্রুপ গিয়ে একটি দোকানে গিয়ে চাঁদার জন্য দোকান বন্ধ রাখতে বলে। এরপর আশপাশে থাকা অন্য দোকানগুলো ও ভবন বন্ধ করতে হুমকি দিয়ে আসে। এ ঘটনার পর এক ভুক্তভোগী মোহাম্মদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘মোহাম্মদপুর থানার বসিলা গার্ডেন সিটি ও আশেপাশের এলাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে চাঁদার দাবিতে হুমকি দিয়ে আসছিলো ফারুক ও তার সহযোগিরা।’
‘সম্প্রতি এক ব্যবসায়ী অভিযোগ দিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কাজ শুরু করে থানা পুলিশ। ইতোমধ্যে তার হুমকি দেওয়ার একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হয়ে যায়। পরবর্তী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফারুক স্থানীয় চিহ্নিত চাঁদাবাজ। তাকে নিয়েই আমরা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মাইকিং করছি। ফারুককে দেখিয়ে আমরা স্থানীয় সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের বার্তা দিতে চাই। অপরাধ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ফারুক এর আগেও গ্রেপ্তার হয়েছিল। মোহাম্মদপুর থানায় তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।’
কেকে/এমএ