চলছে রমজান মাস। সারা দিনের ক্লান্তি ও ক্ষুধা দূর করে নিমিষেই চাঙ্গা হতে ইফতারের থালায় কদর বাড়ছে নানা প্রকারের মৌসুমি ফলের। তবে সুলভ মূল্য ও সুস্বাদু হওয়ায় কুলের চাহিদা তুঙ্গে। বাজারে প্রতি কেজি কুল বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকায়, যা তুলনামূলকভাবে আপেলসহ অন্যান্য আমদানিকৃত ফলের চেয়ে অনেক সাশ্রয়ী।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মাগুরার শালিখা উপজেলা সদর আড়পাড়া বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা যায়।
স্বল্প আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো ইফতারের পাতে আপেলের জায়গা পূরণ করছেন বাহারি কুল দিয়ে। এ যেন ঘোল দিয়ে দইয়ের স্বাদ মেটানোর মতো। যদিও স্বাদের ঘাটতি খুব একটা অনুভূত হয় না। টক-মিষ্টি কুলের স্বাদে বেজায় খুশি সাধারণ ক্রেতরা।
লাল, সবুজ, হলুদ নানা রঙের দেশি ও উন্নত জাতের কুলে সাজানো রয়েছে ফুটপাতের টং দোকান ও ফলের আড়ত। অনেকে বাহারি রঙের কুল ক্রয় করে ছোট্ট পলিথিনে করে বয়ে নিচ্ছেন বাড়িতে। সেখানে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
আড়পাড়া বাজারের জহুর, রুমান, আলামিনসহ একাধিক বিক্রেতা জানান, রমজান এলেই কুলের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। কম দামে সহজলভ্য হওয়ায় ইফতারের জন্য কুল কিনছেন বেশি মানুষ।
ফল বিক্রেতা জাহাঙ্গীর বলেন, ‘সারা দিনে প্রায় দুই মণ কুল বিক্রি করেছি। রোজা শুরু হওয়ার পর থেকে আগের চেয়ে কুল বিক্রি একটু বেড়েছে। কুলের পাশাপাশি দেশি পেয়ারাও ভালো বিক্রি হচ্ছে। মৌসুমি ফল হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের কাছেও কুল বিক্রি লাভজনক হয়ে উঠেছে। পাইকারি বাজারে কুলের সরবরাহ বাড়ায় খুচরা বাজারেও দাম স্থিতিশীল রয়েছে।’
ক্রেতা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আপেল, আঙ্গুর ও কমলালেবুসহ বিভিন্ন বিদেশি ফলের দাম এত দেশি যে, কুল বা পেয়ারাই অনেক ভালো। কারণ এগুলো একদিকে যেমন পুষ্টিকর অপরদিকে স্বল্প মূল্যের।’
পুষ্টিবিদদের মতে, কুলে রয়েছে ভিটামিন সি, আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা রোজার সময় শরীরের ক্লান্তি দূর করতে সহায়ক। তাই কম দামে পুষ্টিগুণে ভরপুর—এই ফল ইফতারের জন্য একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।
সাশ্রয়ী দামে সহজলভ্য হওয়ায় রমজানের বাজারে কুলের এই জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কেকে/এসএ