চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় নিখোঁজের চার দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও খোঁজ মেলেনি মা ও তার তিন বছরের শিশু কন্যার। উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে পরিবারের। দ্রুত তাদের সন্ধান চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৫টার দিকে নিখোঁজের সংবাদ পাওয়া যায়।
নিখোঁজ বিবি খাদিজা (১৯) ও তার মেয়ে জোহুরা আকতার মীম (৩) উপজেলার বখতেয়ার পাড়ার মিন্নত আলী হাট এলাকার একটি বাসায় বসবাস করতেন। তাদের স্থায়ী বাড়ি ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার চর সাহাভিকারী গ্রামে।
নিখোঁজ খাদিজার স্বামী ফেনীর সোনাগাজী থানার সাহাভিকারী গ্রামের আবদুর রহিমের পুত্র আবদুল আল মামুনকে (২৮) অভিযুক্ত করে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
খাদিজার বাবা আবদুর রহিম জানান, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন অভিযুক্ত। প্রায়ই অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটত। কয়েক দিন আগেও মেয়েকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার বিকাল ৫টার দিকে অভিযুক্ত ফোন করে জানান যে, খাদিজা ও তাদের মেয়ে নিখোঁজ। এরপর থেকে খাদিজার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে সেদিন রাতেই পরিবার ফেনী থেকে আনোয়ারায় যান। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে অলি মিয়া গেস্ট হাউসে পৌঁছালে অভিযুক্ত উত্তেজিত আচরণ করেন। সেখানে গালিগালাজ, ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের চেষ্টা করা হয় এবং এক পর্যায়ে বাদীসহ তার সঙ্গে থাকা লোকজনকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়। পুনরায় গেলে ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয়।
আবদুর রহিম বলেন, ‘আমার মেয়ে যদি কোথাও গিয়ে থাকে, তাহলে অন্তত আমাকে ফোন করতো। ধারণা করছি আমার মেয়েকে তার স্বামী পাচারকারীর হাতে তুলে দিয়েছে অথবা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।’
পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নিখোঁজ মা ও শিশুকে উদ্ধার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
আনোয়ারা থানা সূত্রে জানা গেছে, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
কেকে/এসএ