ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এখন সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই লক্ষ্যে রমজান মাসের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এদিকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় আলোচনায় আছেন বিএনপি নেত্রী সোহেলী পারভীন শিখা। দলীয় সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন এবং বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে ১৯৮৯ সালে লক্ষ্মীপুর কফিল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের দায়িত্ব পালন করেন শিখা। ১৯৯১ সালের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে হেলাল-বাবুল পরিষদের প্যানেল থেকে অংশ নেন। পরে ২০০০ সালে ঢাকায় স্থায়ীভাবে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তিনি রাজধানীর তুরাগ থানা বিএনপির সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির প্রস্তাবিত হাসান-কাইয়ুম কমিটির সাবেক সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদিকার দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ ছাড়া দলের দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনেও ভূমিকা রেখেছেন বলে নেতাকর্মীরা জানান। ২০২০ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করেন। এর আগে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে মনোনয়ন বোর্ডে সাক্ষাৎকার দেন। সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন।
সম্প্রতি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সোহেলী পারভীন শিখা বলেন, “বিএনপি করার কারণে অতীতে তাকে হামলা-মামলা ও হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে এবং সন্তানদেরও ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন বলেও জানান তিনি। এ সময় তিনি তার রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘদিনের ত্যাগ-তিতিক্ষার যথাযথ মূল্যায়ন হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
কেকে/এজে