মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: হামে প্রাণ গেল আরও তিন শিশুর, মোট মৃত্যু ৬৮৬      একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
পবিত্র মাহে রমজান : গ্যাস সংকট নিরসনে জোর দিন
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৩ পিএম আপডেট: ২৭.০২.২০২৬ ১২:০৭ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

আজ ৯ রমাজান। রমজান মাসে গ্যাসের সংকট নিরসনের নির্দেশনা থাকলেও কার্যত গ্যাস সংকট কমেনি। সেহরি ও ইফতারের সময় রান্নাঘরের আগুন না জ্বলে পরিবারগুলোকে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে তাড়াহুড়োয়, অনেকেই শেষমেশ ইলেকট্রিক চুলা বা বাইরে থেকে খাবার কিনে কাজ চালাচ্ছেন। 

খোদ ধানমন্ডি, মিরপুর ও রাজপথের আশপাশে বাসিন্দারা গ্যাসের চাপ না থাকায় হচ্ছে না চুলোয় উঠেনি রান্নার পাত্র। ঢাকার জনজীবন কর্মব্যস্ত। দেশের গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহ কাঠামো দিনের পর দিন চাপে থাকে। অঞ্চলভিত্তিক ঘাটতির পাশাপাশি পাইপলাইনের সমস্যা, লাইন লিকেজ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বর্জ্য বৃদ্ধি বাসাবাড়িতে অনিয়মিত গ্যাস চাপের অন্যতম কারণ। এমনকি রমজানের আগে সরকার জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা দিলেও বাস্তবে সেই নিশ্চয়তা আদৌ কার্যকর হয়েছে কি না তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। জ্বালানি বিভাগের তথ্য বলছে, দেশে গ্যাসক্ষেত্র আছে ২৯টি। এতে উত্তোলনযোগ্য মজুত ২৯ দশমিক ৭৪ টিসিএফ (লাখ কোটি ঘনফুট)। এর মধ্যে গত বছরের জুন পর্যন্ত উৎপাদিত হয়েছে ২১ দশমিক ৭৮ টিসিএফ। মজুত বাকি আছে ৭ দশমিক ৯৬ টিসিএফ। বর্তমান হারে উৎপাদন চললে বর্তমান মজুত দিয়ে চলা যেতে পারে সাত থেকে আট বছর। যদিও শেষ দিকে গ্যাসের একাংশ রেখেই উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হয়।

মজুত গ্যাসের মধ্যে সোয়া এক টিসিএফ আছে ভোলায়। ভোলার তিনটি গ্যাসক্ষেত্রের একটিতে সক্ষমতার অর্ধেক উৎপাদিত হচ্ছে। অন্য দুটিতে উৎপাদন শুরু করা হয়নি। ভোলার গ্যাস জেলার বাইরে আনার অবকাঠামো নেই। এই গ্যাস সিএনজি করে সিলিন্ডারে ভরে ঢাকায় আনা হয়, তবে পরিমাণে সামান্য।

মূল কারণগুলোকে বাইরে থেকে খুঁজে বের করারও দরকার নেই। দেশের গ্যাস উৎপাদন নিজস্ব মজুত ও পুরোনো বসন্তের মতো কমে যাচ্ছে, এরপরও আমদানি নির্ভরতা বাড়ছে। এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকার সময় বা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরবরাহ কমে গিয়ে চাপ কমে যায়, এবং পরে আবার স্বাভাবিক হতে সময় লাগে। ঘরের রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের চাপটা নিয়মিত রাখতে পারা যাচ্ছে না। 

রমজান মানে সেহরি-ইফতার, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, দোয়া এবং সহমর্মিতা। কিন্তু রান্না করতে অগ্নি জ্বালানোর জন্য অপেক্ষা করে সময় কাটানো নাগরিক জীবনে এই মাসকে কষ্টকর করে তুলছে। শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীদের জন্য এই জটিলতা আরও বড় বিপদ তৈরি করছে। সময় এসেছে শুধু ঝামেলার কারণ ব্যাখ্যা করা নয়, বরং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যাতে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের জীবন ব্যাহত না হয়। 
 
এ সংকট কেবল অস্থায়ী নয়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, গ্যাস শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, এবং আমদানি ও ঘরোয়া উৎপাদনের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য স্থাপন করা এখন অগ্রাধিকার হওয়া দরকার। রমজানটি শুধু রোজার মাস নয়, এ সময় সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জনজীবনের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনগণের আস্থা ও স্বচ্ছ শক্তি নীতি প্রমাণ করার সুযোগও দেয়।

কেকে/এসএ



আরও সংবাদ   বিষয়:   রমজান    গ্যাস সংকট    সম্পাদকীয়  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close