মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
চাঁদাবাজি, ঘুষ, দুর্নীতিমুক্ত অর্থনীতি চাই
রেজাউল করিম খোকন
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম আপডেট: ২৭.০২.২০২৬ ১২:২৫ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নামে তোলা টাকাকে চাঁদাবাজি বলে মনে করেন না সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এই অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেছেন, তারা এই টাকাটা সমঝোতার ভিত্তিতে তুলছে। জোর করে আদায় করছে না। এ জন্য চাঁদা বলা যাচ্ছে না। 

পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে  শেখ রবিউল আলম বলেন, সড়কে পরিবহনের চাঁদা যেটা বলা হয়, সেভাবে আমি চাঁদা দেখি না। মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি আছে, তারা তাদের কল্যাণে এটা ব্যয় করে। এটা অলিখিত বিধির মতো। চাঁদা আমি সেটাকে বলতে চাই, যেটা কেউ দিতে চায় না বা বাধ্য করা হয়। মালিক সমিতি নির্দিষ্ট হারে টাকা তুলে মালিকদের কল্যাণে ব্যবহার করতে চায়। কতটুকু ব্যবহার হয়, সেটা নিয়ে হয়তো বিতর্ক আছে। কিন্তু তারা সমঝোতার ভিত্তিতে এ কাজটা করে থাকে। শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনসহ অনেক সংস্থা আছে। তারা এটা সমঝোতার ভিত্তিতে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে টাকা তোলে। সেখানে আবার প্রাধান্য পায় যখন যার প্রভাব থাকে, এমন মালিকদের বা দলের প্রভাব থাকে। যে দল ক্ষমতায় থাকে সেই দলের শ্রমিক সংগঠনের একটা আধিপত্য থাকে। কিন্তু এটা চাঁদা আকারে আমাদের কাছে দেখার সুযোগ হচ্ছে না। কারণ, তারা সমঝোতার ভিত্তিতে করছে। তাহলে কি নবগঠিত সরকারের সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর মাধ্যমে চাঁদাকে জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া হলো? তাহলে কীভাবে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে? ব্যাকরণ কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। সূচনাতেই বাংলাদেশ কোন দিকে যাচ্ছে?

দায়িত্ব গ্রহণ করে নতুন সরকারের একজন মন্ত্রীর মুখে এমন কথা শুনে দেশবাসী অবাক হয়েছেন। হতাশ হয়েছেন সবাই চরমভাবে। সবার মনে প্রশ্ন জেগেছে, তাহলে চাঁদাবাজির বৈধতা পেয়ে গেল চাঁদাবাজিতে লিপ্ত মানুষগুলো। গত কয়েক দিন আগে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে একজন টেম্পুচালক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কী বেদনাদায়ক ঘটনা! আমাদের প্রত্যাশা ছিল, বিএনপি ক্ষমতায় আসীন হলে চাঁদাবাজি নির্মূল হবে। যদিও ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। তারা দখলদারিত্বের মহোৎসব শুরু করেছে, বিভিন্ন হাট-বাজার, ট্রাকস্ট্যান্ড বাস টার্মিনাল, টেম্পুস্ট্যান্ড দখল করে দেদার চাঁদাবাজি শুরু করেছে। প্রায়ই খবরের কাগজের পাতায় দেখেছি। এ নিয়ে বিএনপির হাইকমান্ড বিব্রত হলেও তাদের কতিপয় নেতাকর্মীদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। সবাই এ কারণেই বিরক্ত হয়েছে বিএনপির ওপর। নিরীহ বিবেকবান সৎ নীতিবান বিএনপি সমর্থকদের অনেকেই এ কারণেই বিরক্ত ও বিক্ষুব্ধ হয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির বিরোধী জোটের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। আমি নিজে এটা দেখেছি খুব কাছ থেকে। আমার নিজের পরিবারের, বন্ধু বান্ধব, স্বজন চেনা জানা অনেকেই রয়েছেন এই দলের সমর্থক।

সদ্য নির্বাচিত জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি চেয়ারে বসতে না বসতে চাঁদাবাজির যে নতুন সংজ্ঞা দিয়েছেন, তা শুনে সংজ্ঞা হারিয়েছেন। দুর্নীতি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান টিআইবি সংজ্ঞা না হারালেও শঙ্কা প্রকাশ করেছে। এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চাঁদাবাজির মতো একটি অপরাধকে ভিন্ন ব্যাখ্যায় উপস্থাপন করে বৈধতার আবরণ দেওয়ার চেষ্টা দুর্নীতিবিরোধী ঘোষিত অবস্থানের পরিপন্থি। এতে শুধু পরিবহন খাত নয়, রাষ্ট্রীয় সেবা ও উন্নয়নব্যবস্থার বিভিন্ন ক্ষেত্রেও দুর্নীতিকে ন্যায্যতা দেওয়ার প্রবণতা শক্তিশালী হতে পারে। টিআইবি বেশ জোরেশোরেই জানিয়েছে, নবগঠিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু সেই ঘোষণার অল্প সময়ের মধ্যেই পরিবহন খাতে বহুল আলোচিত চাঁদাবাজিকে ‘সমঝোতা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা সরকারের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। অসহনীয় চাঁদাবাজি ব্যবসা-বাণিজ্যে আস্থাহীনতা তৈরি করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে যে হারে চাঁদা দিতে হতো, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে ব্যবসায়ীদের একই হারে চাঁদা দিতে হচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি দিতে হয়েছে। 

অন্তর্বর্তী সরকার চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারেনি, এমনকি সরকারি দপ্তরে এক দিনের জন্যও দুর্নীতি কমেনি। চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে আমরা ব্যবসা বন্ধ করে চলে যাবেন বলে হুমকি দিয়েছেন ব্যবসায়ী সমাজ। বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় নবগঠিত সরকারের কাছে  সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক । নতুন সরকার এমন একসময় ক্ষমতায় এসেছে, যখন অর্থনীতি অনেকগুলো চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি সর্বনিম্ন, বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছে, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি তলানি ঠেকেছে। এসব সমস্যার মূলে রয়েছে ব্যাংকিং খাতের সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং অস্থিতিশীল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এসব সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিলেও তার তেমন কিছু পরিবর্তন হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা আরও ঘনীভূত হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি এবং তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প-কারখানার উৎপাদন প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে। এখন কারখানায় চাঁদা দেওয়া আবশ্যক হয়ে পড়েছে এবং আওয়ামী দুঃশাসন পার হলেও তা বন্ধ হয়নি। স্থানীয় শিল্প-কারখানাগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সবার আগে উন্নতি করতে হবে। 

ক্ষমতাসীন দলের লোকজন, পুলিশ, রাজস্ব কর্মকর্তাসহ অনেকেই চাঁদাবাজি করেন। কারা চাঁদাবাজি করছে, সেটা সরকারকে বের করতে হবে। সাধারণত দেখা যায়, চাঁদাবাজরা এসে বলে, তারা সরকারি দলের লোক। যখনই যে সরকার আসে, তখনই বলে, আমরা সরকারি দলের লোক; আমাদের চাঁদা দিতে হবে। আমাদের এই অনুষ্ঠান আছে, পাড়ার এই চাঁদা দিতে হবে। সড়ক পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি ভয়ংকর অবস্থায় পৌঁছেছে। একইভাবে বিভিন্ন ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা হরদম চাঁদাবাজদের টার্গেটে থাকেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অনেক ব্যবসায়ীকে অকালে প্রাণ দিতে হয়েছে কিংবা হচ্ছে। এটা যেন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে উঠেছে আমাদের সমাজে। নিজেদের কারখানায় ঢুকতেও  শিল্প মালিকদের চাঁদা দিতে হয়। অফিস ও রাস্তায় চাঁদা দিতে হয়। জনগণ ও ব্যবসায়ী মহল চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেও কোনো কাজ হয়নি।

চব্বিশের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর আমাদের প্রত্যাশা ছিল, দেশ এবার চাঁদাবাজি কবল থেকে মুক্ত হবে, সবাই নির্বিঘ্নে ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করবেন, শিল্প কলকারখানা চালাবেন, নিজের জায়গায় নিশ্চিন্তে ঘরবাড়ি বানাবেন। সড়ক পরিবহন খাতে কোনো চাঁদাবাজি হবে না। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কার্যকর উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি চাঁদাবাজি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা। সরকারি খাতে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা। যারা ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি নন, তাদের প্রয়োজনীয় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দিয়ে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং ঋণের সুদের হারকে যুক্তিসংগত ও সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনায় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের কথা খুব স্পষ্টভাবে বলেছেন। এ প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের পরিবহন খাতের চাঁদাবাজিকে সমঝোতার ভিত্তিতে লেনদেন হিসেবে আখ্যায়িত করার বিষয়টি সরকারের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে নিঃসন্দেহে সাংঘর্ষিক। এই ধরনের বক্তব্যে একদিকে যেমন নতুন সরকার নিয়ে নাগরিকদের মাঝে ভুল বার্তা দিয়েছে, অন্যদিকে পরিবহন খাতে যারা অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িত, তাদেরও উৎসাহিত করেছে। সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন এবং সেতুমন্ত্রী কীভাবে বললেন, পরিবহন খাতে টাকাটা সমঝোতার ভিত্তিতে তোলা হচ্ছে। জোর করে আদায় করা হচ্ছে না। এ জন্য এটিকে চাঁদা বলা যাচ্ছে না। মন্ত্রী নিজেই যেখানে তার বক্তব্যে কল্যাণের নামে তোলা টাকার কতটা কল্যাণে ব্যবহৃত হয় তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং শ্রমিক সংগঠনে যে দল ক্ষমতায় থাকে তার একটা আধিপত্য থাকে বলে স্বীকার করেছেন, সেখানে কোন নৈতিক যুক্তির বলে এটিকে সমঝোতার লেনদেন বলছেন, সেটা নাগরিকদের কাছে বোধগম্য নয়। এখানে প্রশ্ন ওঠাটা তাই স্বাভাবিক যে মন্ত্রী কি ‘সমঝোতা’ বলে চাঁদাবাজিকে বৈধতা দিলেন? 

সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা বাংলাদেশের নাগরিকদের সীমাহীন দুর্ভোগ ও ট্র্যাজেডির বড় কারণ। সড়কে প্রতিদিন গড়ে ২৫ জনের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের বেশির ভাগই তরুণ ও কর্মক্ষম। সড়কে এই মৃত্যুর মিছিল নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড। ২০২৪ সালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণায় দেখা যায়, ব্যক্তিমালিকানাধীন বাস ও মিনিবাস থেকে বছরে ১ হাজার ৫৯ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হয়। এ ছাড়া পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ট্রাক, মিনি ট্রাক থেকেও বিপুল অঙ্কের চাঁদা তোলা হয়। যে দল যখন ক্ষমতায় থাকে, তাদের প্রভাবপুষ্ট পরিবহনমালিক ও শ্রমিকদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা পায়। সড়ক পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রক রাজনৈতিক এই প্রভাবশালীদের সঙ্গে পুলিশ ও বিআরটিএর অসাধু কর্মকর্তাদের একটা অসাধু আঁতাত গড়ে ওঠে। সড়কে বিশৃঙ্খলার পেছনে এই দুর্নীতিপুষ্ট ব্যবস্থা ও চাঁদাবাজিই মূল দায়ী। এখানে গোষ্ঠীবদ্ধ স্বার্থের নির্মম বলি হতে হয় নাগরিকদের।

অতীতে নানা সময়ে পরিবহন খাতের চাঁদাবাজিকে বৈধতা দেওয়ার এক ধরনের চেষ্টা দেখা গেছে। নাগরিক সমাজের প্রতিবাদের মুখে সেটা বন্ধ হলেও পরিবহন খাতকে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির হাত থেকে কোনো সরকারই মুক্ত করার উদ্যোগ নেয়নি। পরিবহন খাতে পরিচালন ব্যয়ের বাইরে চাঁদা কিংবা কল্যাণ যে নামেই টাকা তোলা হোক না কেন, তাতে জনগণের ঘাড়ে বাড়তি ব্যয়ের চাপ এসে পড়ে। রাস্তায় রাস্তায় চাঁদার কারণে পরিবহন ভাড়ার সঙ্গে নিত্যপণ্যের দামও বেড়ে যায়। বাংলাদেশে যে নৈরাজ্যিক পরিবহন খাত, তার বড় ভুক্তভোগী চালক ও সহকারীরাও। আইন অনুযায়ী তাদের নিয়োগপত্র এবং মাসিক বেতন দেওয়া নিশ্চিত করাটাই সবচেয়ে বড় শ্রমিক কল্যাণ। সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো সরকারের একটি বড় দায়িত্ব। এ খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির শিকড় না উপড়াতে পারলে শৃঙ্খলা ফেরাতে যে পদক্ষেপ নেওয়া হোক না কেন, সেটা কোনো ফলই আনতে পারবে না। সড়কে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হলে সরকারকে শুরু থেকেই শক্ত বার্তা দেওয়ার বিকল্প পথ নেই। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধে আমরা নতুন সরকারের কাছ থেকে কড়া বার্তা প্রত্যাশা করছি। চাঁদাবাজি, ঘুষ, দুর্নীতিমুক্ত অর্থনীতি চাই, এটাই আমাদের সবার একান্ত প্রত্যাশা এবং দাবি।
       
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার ও কলামিস্ট

কেকে/এসএ



আরও সংবাদ   বিষয়:  চাঁদাবাজি   ঘুষ   দুর্নীতিমুক্ত   অর্থনীতি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close