চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে এক জামায়াতকর্মী নিহত এবং উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের সময় পূর্ব বিরোধের জেরে হাসাদহ বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে গুরুতর অবস্থায় কয়েকজনকে যশোর হয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকায় নেওয়ার পথে রবিবার রাত ১টার দিকে হাফিজুর রহমান মারা যান।
নিহত হাফিজুর রহমান (৪৫) বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াত আমিরের ভাই ও জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামের ওহাব মিয়ার ছেলে।
আহতদের মধ্যে বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান (৪২) গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া জামায়াত ও বিএনপির আরও কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সুটিয়া গ্রামের জামায়াত সমর্থক সোহাগ ও বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জসিম উদ্দীনের ছেলে মেহেদীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি মীমাংসার জন্য হাসাদহ বাজারে বৈঠকের কথা থাকলেও সন্ধ্যায় কথা-কাটাকাটি থেকে ধাক্কাধাক্কি এবং পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে জামায়াতপন্থীরা বিএনপি নেতা মেহেদীর বাড়িতে হামলা চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়। পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা পাল্টা আক্রমণ চালালে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।
খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) মো. আনোয়ারুল কবীর ও জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান সেখের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান সেখ বলেন, ‘হাসাদহ এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে নিহতের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে রোববার (১ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় জীবননগরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
কেকে/ এমএস