সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬,
১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: নতুন নীতিমালায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চালু      মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ      ঢাবিতে ভর্তি আবেদন ১১ নভেম্বর থেকে, পরীক্ষা শুরু ৫ ডিসেম্বর      সব বেসরকারি দাখিল-আলিম মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটি বাতিল      ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৭০ টাকা      ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু      দুবাইয়ের জেল থেকে মুক্তি পেলেন বেনজীর      
দেশজুড়ে
মদনের বালই নদীতে বিষ দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগ
আলী আজগর পনির, মদন (নেত্রকোনা)
প্রকাশ: রোববার, ১ মার্চ, ২০২৬, ৯:৫৫ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

নেত্রকোনার মদন উপজেলার বালই নদীতে অসাধু চক্র কর্তৃক বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করার অভিযোগ উঠেছে। এতে নদী জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের আঁধারে নদীর নির্দিষ্ট জায়গায় কীটনাশক ঢেলে দেওয়া হয়। ১-২ ঘণ্টার মধ্যে মাছ অসুস্থ্য হয়ে ভেসে ওঠে বা মারা যায়। পরে জাল ফেলে সংগ্রহ করা হয় এসব মাছ। বিষ নদীর পানিতে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এতে শুধু মাছ ছাড়াও নদীতে থাকা হাসঁ, ব্যাঙ, শামুক, কাঁকড়া ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে। এসব বিষাক্ত মাছ খেলে কিডনি ও লিভারের ক্ষতিসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে। বিষাক্ত পানির কারণে ফসল ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত  হয়।

বাঘমারা গ্রামের জানু মিয়া, অনল মিয়া, রুক্ত জানান, গ্রামের আনারুল, সানারুল, সম্রাট, ইনূল, সুহেল, বকুল, এট্রাসসহ বেশ কয়েকজন অসাধু জেলে রাতের আঁধারে বিষ দিয়ে মাছ ধরতে চাইলে প্রথমে আমরা তাদের বাধা দেই। তারা আমাদের কোন বাধা মানে নাই। রাতের আঁধারে বিষ দিয়ে মাছ মেরেই ফেলেছে।

তারা আরও জানান, এতে নদীতে বিভিন্ন রকমের মাছ ভেসে উঠেছে। নদীতে অনেকে হাসেঁর খামার রয়েছে। ওই হাসঁ নদীতেই খাবার খায়। সকালে গিয়ে দেখি বেশ কয়েকটি হাসঁ মরে ভেসে উঠেছে।

তারা জানান, নদীতে প্রায় ১৫-২০ জনের ১০ হাজারের ওপরে হাসঁ লালন-পালন করে। ওই নদীতে শুধু মাছ না, শত শত গরু বাচুর গোসল করানো হয়। এখন বিষ দেওয়ায় কয়েক হাজার হাসঁ মৃত্যুর মুখে রয়েছে। আমরা এখন খুবই দুঃচিন্তায় আছি।  

অভিযোগের বিষয়ে মৎস্যজীবী আনারুল বলেন, ‘আমরা নদীতে মাছ ধরতে বিষ দেইনি। মাছ ধরতে অনেক চোর আছে। তারাই মূলত বিষ দিয়েছে।’

মদন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা আশরাফ উল্লাহ জানান, অসাধু জেলেরা ‘ফাইটার’ নামে একটি ওষুধ দেয়। এতে নদীর এক একরের মধ্যে যত ধরনের মাছ থাকে তা তীরে চলে আসে। বাঘমারার সামনে বালই নদীতে এমনভাবে মাছ শিকারের কথা শুনেছি। বিষয়টি  উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে যেন ভুক্তভোগীরা অবগত করেন।

‘বারসিক’-এর জেলা আঞ্চলিক সমন্বয়কারী অহিদুর রহমান বলেন, ‘উন্মুক্ত ও প্রবাহিত জলাশয়ে ওষুধ ব্যবহার করে মাছ শিকার নিষিদ্ধ। কারণ, নদীর কোনো স্থানে বিষ দিলে ওই স্থানে অন্তত ১৫ দিন কোনো মাছ আসে না। এ ছাড়া বিষ দেওয়া মাছ খেলে মানুষের শরীরের ক্ষতি হয়। তাই জনসচেতনতা জরুরি। জনসচেতনতা ছাড়া এদের প্রতিরোধ করা যাবে না।’

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, ‘আমি এখনই খোঁজ নিচ্ছি।’

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  মদন   বালই নদী   বিষ দিয়ে মাছ শিকার  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close