মাদারীপুর সদর উপজেলার দুর্গাবরদী গ্রামে মুখমণ্ডল বিকৃত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এক ব্যক্তির লাশের ঘটনায় রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। শুরুতে এটি ছিল সম্পূর্ণ ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড। লাশের পরিচয় ছিল অজানা, মুখমণ্ডলের চামড়া তুলে ফেলা হয়েছিল, ঘটনাস্থলে ছিল না কোনো সুস্পষ্ট আলামত।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে মাদারীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের আসামি সিরাজ সরদারকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানায় পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তার সঙ্গে আরও তিনজন জড়িত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পুলিশ সুপার বলেন, “ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ ক্লুলেস। তদন্ত ও প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে অল্প দিনেই আমরা হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি।”
গত ২২ ফেব্রুয়ারি মাদারীপুর সদর উপজেলার দুধখালি ইউনিয়নের দুর্গাবরদী গ্রামের জয়নাল বেপারীর বাড়ির পাশের ভুট্টা ক্ষেত থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিচয় গোপন করতে মুখমণ্ডল বিকৃত করায় প্রথমদিকে তদন্তে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে পুলিশ।
তবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা তৎপরতা এবং বিভিন্ন সূত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি মাদারীপুর সদর থানার দক্ষিণ বিরাঙ্গলের বাসিন্দা সিরাজ সরদার (৫৬)।
এ ঘটনায় ২৭ ফেব্রুয়ারি মাদারীপুর সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তের এক পর্যায়ে মো. বিলাল হোসেন সরদার (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অন্যান্য জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
কেকে/এজে