নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় ছাগল চুরিকে কেন্দ্র করে চোর চক্রের সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আতঙ্কে রয়েছে বলে জানা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম নামের এক ব্যক্তির একটি পাটনাইয়া ছাগল রাতের আঁধারে চুরি করে নিয়ে যায় কামরুল হাসান ও সবুজসহ তাদের সংঘবদ্ধ চক্র।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় সোনাইমুড়ীর ডুমুরীয়ায় জাহেরের চা দোকানের সামনে রাস্তার ওপর ১০ থেকে ১৫ জনের অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা জাহাঙ্গীর আলমের ওপর হামলা করে। হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার বুকের বাম পাশে, কাঁধে, হাতের বাহুতে, পিঠের বাম পাশে ও বাম কানে পরপর আঘাত করে। স্থানীয় লোকজন এ অবস্থায় জাহাঙ্গীর ও তার সঙ্গে আরো কয়েকজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে সবাইকে তাৎক্ষণিক মেডিকেলে ভর্তি করায়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার ২০ ফেব্রুয়ারি থানায় মামলা দায়ের করেছে। অভিযোগ রয়েছে, মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং ভুক্তভোগীসহ তার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে। এতে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বুধবার (৪ মার্চ) দুপুর ২টায় এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম ও তার পরিবার সাংবাদিকদের জানান, কামরুল হাসান ও সবুজসহ একাধিক মুখোশধারী ব্যক্তি এসে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায়। ২৪ ঘন্টার ভিতরে মামলা তুলে না নিলে, আমিসহ আমার পরিবারকে জানে মেরে ফেলবে। মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং আমার পরিবারকে হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি—খুব দ্রুত এই সন্ত্রাসীদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
সোনাইমুড়ী থানার এসআই মিথুন চন্দ্র শীল বলেন, ‘অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে, দ্রুত সময়ের ভেতরে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।’
এলাকাবাসীর দাবি, কামরুল হাসান, সবুজসহ এদের একটি গ্যাং আছে। তারা এলাকায় যখন-তখন সাধারণ মানুষকে অত্যাচার করে এবং সবসময় এলাকায় উচ্ছৃঙ্খল অবস্থায় চলাফেরা করে। এ গ্যাং চুরি থেকে শুরু করে মাদক বিক্রিসহ এমন কোনো কিছু নাই—যেটা তারা করে না। তারা দীর্ঘদিন থেকে এলাকায় চুরি, মাস্তানিসহ মাদক বিক্রয় ও মাদক সেবন করে আসছে। তাই আমরা এলাকাবাসী প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যাতে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।
কেকে/এজে