মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
নারী ও শিশুর নিরাপত্তায় কঠোর আইন ও কার্যকর প্রয়োগ জরুরি
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ৯:০২ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

সম্প্রতি নরসিংদী, সীতাকুণ্ডসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশু ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হওয়ার ঘটনা গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এসব ঘটনা শুধু বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; বরং সমাজের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পারছে, যা অবশ্যই ইতিবাচক দিক। কিন্তু গ্রেপ্তারই শেষ কথা নয়। প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে সময়মতো বিচার নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের এমন শাস্তি দেওয়া, যা সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী এসব মামলার বিচার নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে যায়। তদন্তের ধীরগতি, সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহে দুর্বলতা, আদালতের মামলার চাপ এবং বিচার প্রক্রিয়ার জটিলতা অনেক সময় বিচার বিলম্বিত করে। ফলে অপরাধীরা শাস্তির ভয় হারায় এবং ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়। তাই প্রথমত প্রয়োজন তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

আইন সংস্কারের বিষয়টিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান আইনগুলো অনেক ক্ষেত্রে কঠোর হলেও বাস্তব প্রয়োগে দুর্বলতা রয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও পেশাদার ও প্রযুক্তিনির্ভর করা, ফরেনসিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং সাক্ষী সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। একইসঙ্গে বিশেষ ট্রাইব্যুনালগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে হবে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিচার শেষ করা সম্ভব হয়।

তবে শুধু আইন দিয়ে এ সংকট পুরোপুরি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সমাজে প্রচলিত নানা সামাজিক মানসিকতা ও বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গিও নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার পেছনে ভূমিকা রাখে। অনেক সময় ভুক্তভোগীকে দায়ী করার প্রবণতা কিংবা ঘটনাকে চাপা দেওয়ার সংস্কৃতি অপরাধীদের পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করে। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।

এ ক্ষেত্রে সরকার সমন্বিত উদ্যোগ নিতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ধর্ষণ ও সহিংসতার শাস্তি সম্পর্কে নিয়মিত প্রচারণা চালানো, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী ও শিশু সুরক্ষা বিষয়ে শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা কার্যকর হতে পারে। একইসঙ্গে জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন ও গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে সহিংসতার তথ্য দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পৌঁছানোর একটি বাধ্যতামূলক কাঠামো গড়ে তোলা দরকার।

হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে অভিযোগ ও প্রতিকার কমিটি গঠনও জরুরি। এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা থাকলে অনেক ঘটনা প্রাথমিক পর্যায়েই প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ধর্ষণ ও হত্যাসংক্রান্ত মামলাগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন, যাতে বিচারপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক থাকে।

সবশেষে মনে রাখতে হবে, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা শুধু একটি আইনশৃঙ্খলা বিষয় নয়; এটি একটি মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন। রাষ্ট্র যদি দ্রুত বিচার, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতার সমন্বিত উদ্যোগ নিতে পারে, তবে এ ভয়াবহ সহিংসতা অনেকটাই কমানো সম্ভব। ন্যায়বিচারের দৃশ্যমান উদাহরণই পারে সমাজে অপরাধের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা পৌঁছে দিতে।
 
কেকে/এসএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  নারী   শিশু    কঠোর আইন   
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close