বান্দরবানে ইকো-লিডার্স দ্য আর্থ-এর সহযোগিতায় যুব উন্নয়ন ফর সাসটেইনেবল বাংলাদেশ দলের আয়োজনে ‘গ্রীণ ফাইবার’ প্রকল্প নিয়ে কমিউনিটি সংলাপ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বান্দরবান সদরের হলিডে ইন রিসোর্টে যুব উন্নয়ন ফর সাসটেইনেবল বাংলাদেশের উদ্যোগে এবং ইকো-লিডার্স দ্য আর্থ-এর সহযোগিতায় ‘গ্রীণ ফাইবার প্রকল্প’ বিষয়ক কমিউনিটি সম্পৃক্ততা ও সংলাপ সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় কমিউনিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
সংলাপ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ম্যা ম্যা নু মারমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এনায়েত করিম, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম এবং উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রতিনিধি বাপ্পা দাশ।
এছাড়া আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ওয়ার্ল্ড ভিশনের প্রতিনিধি আশিস হালদার এবং বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সমন্বয়ক ও প্রভাষক ওয়াহিদ রহমান, বলিপাড়া নারী কল্যাণ সমিতির (বিএনকেএস) উপ-নির্বাহী পরিচালক উবানু মারমা প্রমুখ।
আলোচনা সভায় ‘গ্রীণ ফাইবার প্রকল্প’এর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব কাঁচামাল ব্যবহার করে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণের সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সংলাপ সভায় ‘গ্রীণ ফাইবার’ উদ্যোগের মাধ্যমে কলাগাছের আঁশ ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন পণ্য তৈরির পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। এই আঁশ ব্যবহার করে রশি, বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প পণ্য এবং গৃহস্থালি ব্যবহার্য সামগ্রী তৈরি করা সম্ভব। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে তৈরি এসব পণ্য পরিবেশের জন্য নিরাপদ এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই।
ইউথ ডেভেলপমেন্ট ফর সাসটেইনেবল বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক লিলি প্রু মারমা বলেন, “বান্দরবান একটি প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় এখানে প্রায়ই বিদ্যুতের সমস্যা দেখা যায়। সাধারণত এ ধরনের মেশিনের দাম প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা, যা স্থানীয় মানুষের জন্য অনেক সময় ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। তবে এই প্রকল্পে এমন একটি মেশিন তৈরি করা হয়েছে, যা কাঠামোগতভাবে গাছের উপাদান দিয়ে তৈরি এবং বিদ্যুৎ ছাড়াই পরিচালনা করা সম্ভব। ফলে বিদ্যুৎ না থাকলেও স্থানীয় জনগণ সহজেই তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।”
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, “পাতা বা অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে জ্বালানি পেলেটসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে বাজারজাত করা যেতে পারে, যা পরিবেশের জন্য নিরাপদ এবং অর্থনৈতিকভাবেও লাভজনক।”
সংলাপ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ম্যা ম্যা নু মারমা স্থানীয় উদ্যোগগুলোকে পার্বত্য জেলা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, “কমিউনিটি পর্যায়ে সমিতি গঠন করা, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ঋণ সুবিধা গ্রহণ, বিভিন্ন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা এবং অনুদান তহবিল ও অবকাঠামোগত সহায়তা গ্রহণের মাধ্যমে কমিউনিটির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উন্নয়নমূলক সহায়তা পাওয়া সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “কমিউনিটির সঙ্গে দলগত আলোচনা আয়োজনের মাধ্যমে বাজারের চাহিদা ও মানুষের প্রয়োজন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য কাঁচামাল ব্যবহার করে নতুন পণ্য তৈরি করা যেতে পারে—যেমন ভুট্টা দিয়ে পুতুল তৈরি, পদ্মের ডাঁটা বা অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান থেকে রেশম সুতা তৈরি ইত্যাদি। নতুন পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রশিক্ষণ প্রদানও গুরুত্বপূর্ণ।’’
‘এ ক্ষেত্রে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য যত পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করা হবে, তত পরিমাণ পুনরায় উৎপাদন বা রোপণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’
কেকে/এলএ