পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সুমন হাওলাদার ও তার ভাই মিরাজের বিরুদ্ধে সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী দুই সন্তানের জননী জান্নাতী বেগম (২৫) ও মা হাসিনা বেগমকে (৫০) মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের বিপিনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা আহত জান্নাতীকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেছে। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আর হাসিনা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
সুমন হাওলাদার মহিপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন।
শরীরের যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরানো জান্নাতী বেগম বলেন, ‘৩-৪ বছর ধরে প্রতিবেশী সুমনের সঙ্গে ১৩ শতাংশ জমি নিয়ে আমার শাশুড়ি হাসিনা বেগমের বিরোধ চলে আসছে। এ জমি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বেশ কয়েকবার শালিস হয়েছে। কিন্তু সুমন কোন শালিস মানে না। আমার স্বামী সৌদি থাকার সুবাদে আমি ও আমার শাশুড়ি ওই বাড়িতেই থাকি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ সুমন ও তার ভাই মিরাজ আমাদের ওই জমি দখল করতে আসে। আমি ও আমার শাশুড়ি বাধা দিলে তারা আমাদের ব্যাপক মারধর করে। চার মাস আগে সিজারের মাধ্যমে আমার কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। সুমন আমার তল পেটে লাথি দেওয়ায় আমি গুরুতর আহত হই। তারপরও তারা আমাকে মারতে থাকে। একপর্যায়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।’
হাসিনা বেগম বলেন, ‘আমাকে ও আমার ছেলের স্ত্রীকে মারধর করার সময় আমাদের বাড়ির পাশের হাসান ভিডিও করে। আমরা চলে আসার পর তারা হাসানকেও মারধর করে। সুমন ও তার লোকজন আমাদের কাঠ ও টিন লুটপাট করে নিয়ে গেছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুমন হাওলাদার বলেন, ‘আমার জমি তারা দখল নিয়েছে। আমি বাধা দিতে গেলে তারা আমাকে মারধর করে। আমি হাসপাতাল ভর্তি আছি।’
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত খান বলেন, ‘এ ঘটনায় কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এমএ