কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক মাসের কারাদণ্ড পাওয়া কলেজছাত্রী ও তার মাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
শনিবার (৭ মার্চ) কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল আলমের বিশেষ বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন।
গত বুধবার (৪ মার্চ) পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বিচারপ্রার্থী হয়ে পেকুয়া থানায় যান কলেজছাত্রী জুবাইদা জন্নাত (২৩) ও তার মা রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮) ।
তাদের অভিযোগ, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই পল্লব কুমার প্রতিবেদন পক্ষে দেওয়ার নামে তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেন। পরবর্তীতে বিবাদীর কাছ থেকে আরও বেশি টাকা নিয়ে তাদের বিপক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করায় তারা ওই টাকা ফেরত চান।
টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে থানায় বাগবিতণ্ডা ও হট্টগোল সৃষ্টি হলে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলমকে থানায় ডেকে আনা হয়। ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সরকারি কাজে বাধা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে মা ও মেয়েকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এই ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এরই প্রেক্ষিতে শনিবার বিশেষ বেঞ্চে শুনানির পর আদালত তাদের নির্দোষ ঘোষণা করে খালাসের আদেশ দেন।
স্থানীয়রা এবং ভুক্তভোগী পরিবার এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং জড়িত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী মা ও মেয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পল্লব কুমার জমি সংক্রান্ত মামলার প্রতিবেদন পক্ষে দেওয়ার নাম করে ২০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছিলেন। এই অভিযোগ তদন্তের জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানিয়েছেন যে, ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসবে।
ইউএনও মাহবুব আলম জানিয়েছেন, থানায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং পুলিশের সাথে হাতাহাতির ঘটনায় তিনি তাৎক্ষণিক সাজা দিয়েছিলেন।
তবে আদালত থেকে মা-মেয়েকে বেকসুর খালাস দেওয়ার মাধ্যমে ইউএনওর ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশের ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন বা চূড়ান্ত শাস্তির ঘোষণা এখনো সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে এসআই পল্লব কুমারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কেকে/এসএ