কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের সাঁতানী গ্রামের আব্দুর রহিম হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার (৮ মার্চ) সকালে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে গ্রামবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে অংশগ্রহণকারীরা মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া গ্রামবাসীরা বলেন, এ ঘটনায় নিহতের পরিবার মেঘনা থানায় মামলা করলেও প্রধান অভিযুক্ত এখনো গ্রেফতার হয়নি। দ্রুত তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
তাদের দাবি, অভিযুক্ত সিহাবের বিরুদ্ধে আগে থেকেই মাদক সেবন ও কেনাবেচার অভিযোগ ছিল। এসব কারণে একসময় তাকে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। পরে ক্ষমা চেয়ে গ্রামে ফিরে এলেও অল্পদিনের মধ্যেই এমন নৃশংস ঘটনার জন্ম দিয়ে তিনি পালিয়ে যান।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুর ১২টার দিকে সাঁতানী গ্রামে মুরগি নিয়ে তুচ্ছ বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এ সময় গ্রামের শহীদুল্লার ছেলে মো. সিহাব (২৪) প্রতিবেশী আব্দুর রহিমের সঙ্গে কথা–কাটাকাটির একপর্যায়ে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালান। এতে আব্দুর রহিম, তার স্ত্রী ও ছেলের বউ গুরুতর আহত হন।
হামলার পর অভিযুক্ত সিহাব ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুরুতর আহত আব্দুর রহিমকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়।
পরে ২ মার্চ সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আহত অন্য দুজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতার জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে এবং দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
কেকে/এলএ