মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ ভাবে হামলা চালিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একজনকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে পৌর শহরের নতুন মাদারীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আলমগীর হাওলাদার (৫০) মাদারীপুর পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন মাদারীপুর এলাকার হাফেজ হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আধিপত্য নিয়ে মাদারীপুর পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ‘নতুন মাদারীপুর’ এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় সাবেক পৌর কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলদারের সঙ্গে একই এলাকার হাসান মুন্সীর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। প্রায় এক বছর আগে সংঘটিত শাকিল মুন্সি হত্যাকাণ্ডের জের ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও দফায় দফায় সংঘর্ষ প্রায়ই চলছে৷
এরই জেরে মঙ্গলবার সকাল ৮ টার দিকে হাসান মুন্সীর পক্ষের লোকজন মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলদারের সমর্থক ও তার চাচাতো ভাই আলমগীর হাওলাদারের উপর সংঘবদ্ধ ভাবে হামলা চালায়। এ সময় আলমগীর হাওলাদারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার হাতের কব্জি কেটে ফেলে হামলাকারীরা। পরে বেধড়ক ভাবে কুপিয়ে হত্যা করে ফেলে রাখে।
এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়ি ঘর ভাঙচুর ও লুটপাটও করা হয় বলে অভিযোগ করে নিহতের পরিবার।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মাসুদ বেপারী নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।
এর আগে, রোববার রাতে একই এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। এ সময় উভয়পক্ষ টর্চলাইটের আলো জ্বালিয়ে দফায় দফায় অর্ধশতাধিক হাতবোমা নিক্ষেপ করে। বিকট শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়রা ঘরের ভেতরেই অবস্থান নেন।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, আধিপত্য নিয়ে প্রায়ই সংঘর্ষের জড়ায় দুইপক্ষ। এর আগেও বেশ কয়েকবার হামলা ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। আলমগীর হাওলাদারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মাসুদ বেপারী নামে একজনকে জড়িত সন্দেহে আটক করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
কেকে/ এমএস