রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সমন্বয়ক ইব্রাহিম খলিল শুভকে কুপিয়ে জখম ও চাঁদাবাজির ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি মোল্লা কাউসারকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) পটুয়াখালী জেলার সদর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, গত ২১ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মোহাম্মদপুর থানাধীন বসিলা রোডের ময়ূরভিলা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে সোহেল ওরফে গ্যারেজ সোহেল, রিপন ওরফে কাউয়া রিপন, মিন্টু আহমেদ ওরফে পাপ্পুসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী মো. রাসেল (৩৭) ও মো. মামুনকে (৩২) মারধর এবং ধারালো সামুরাই দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের হয়।
এর পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে একই এলাকার জুলাই হত্যা মামলার সাক্ষী ও সমন্বয়ক ইব্রাহিম খলিল শুভকে (২৯) একই সন্ত্রাসী চক্র ধারালো সামুরাই দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে তাকে উদ্ধার করে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায়ও মোহাম্মদপুর থানায় আরেকটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়।
র্যাব-২ জানায়, ঘটনার পর গত ১ মার্চ ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে বিদেশি রিভলবার ও দেশীয় অস্ত্রসহ সোহেল ওরফে গ্যারেজ সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ৮ মার্চ মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে রিপন ওরফে কাউয়া রিপন ও মিন্টু আহমেদ ওরফে পাপ্পুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, একটি সামুরাই, একটি ছুরি ও একটি দা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানের মাধ্যমে পটুয়াখালীর সদর থানা এলাকা থেকে এই চক্রের প্রধান আসামি মোল্লা কাউসারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, কাউসার ও তার সহযোগীরা দেশি-বিদেশি অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করত।
গ্রেপ্তারকৃত মোল্লা কাউসারের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
কেকে/ এমএস