কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় পাইকারি ও খুচরা বাজারে তরমুজের দাম আকস্মিক কমে যাওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রমজান ও গরমের শুরুতে যে তরমুজের দাম আকাশচুম্বী ছিল—বর্তমানে তা সাধারণ ক্রেতাদের হাতের নাগালে চলে এসেছে। তবে দামের এই নিম্নমুখী প্রবণতায় খুচরা ক্রেতা ও বিক্রেতারা সন্তোষ প্রকাশ করলেও চরম লোকসানের মুখে প্রান্তিক চাষিরা।
বুধবার (১১ মার্চ) লাকসামের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় তরমুজের দাম কেজিতে বা পিস হিসেবে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমেছে। বড় সাইজের একটি তরমুজ যা কয়েকদিন আগে ৫০০-৬০০ টাকায় বিক্রি হতো—তা এখন ৩০০-৩৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
দাম কমায় বাজারে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে। অনেকেই একাধিক তরমুজ কিনছেন।
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, আগে দাম বেশি থাকায় বিক্রি কম ছিল। এখন দাম কমায় বেচাকেনা বেড়েছে কয়েকগুণ। ফলে তাদের ব্যবসায় গতি ফিরেছে।
মাঠ পর্যায়ের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। ফলন ভালো হলেও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় অনেক চাষি তাদের উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না।
ব্যবসায়ীদের মতে, বাজারে একসাথে প্রচুর পরিমাণে তরমুজের আমদানি হওয়ায় সরবরাহ চাহিদার চেয়ে বেড়ে গেছে। এছাড়া আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে পচনশীল এই ফল দ্রুত বিক্রি করে দেওয়ার প্রবণতাও দাম কমার অন্যতম কারণ।
মাঠে ঘাম ঝরানো কৃষকরা এখন দিশেহারা। একজন স্থানীয় চাষি আক্ষেপ করে বলেন, আমরা অনেক আশা-ভরসা নিয়ে এবার তরমুজ চাষ করেছিলাম। সার, বিষ আর শ্রম—সবমিলিয়ে যে খরচ হয়েছে, বর্তমান বাজারে তা বিক্রি করে অর্ধেক টাকাও উঠছে না। আমরা একেবারে ‘ডাউন সেটে’ পড়ে গেলাম। এভাবে দাম কমতে থাকলে আগামীতে চাষ করার সাহস পাব না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেট এবং সঠিক হিমাগার ব্যবস্থার অভাবেই কৃষকরা বার বার এমন লোকসানের শিকার হন। একদিকে ভোক্তারা কম দামে ফল পেয়ে খুশি হলেও, দীর্ঘমেয়াদে কৃষকের এই ক্ষতি দেশের কৃষি অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত।
কেকে/এজে