গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণ স্থগিত করা হয়েছে। বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে দিনভর অপেক্ষার পর চাল না নিয়েই বাড়ি ফিরেছেন চার হাজারের বেশি দুস্থ সুবিধাভোগী।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রামজীবন ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
দেখা গেছে, চাল না পেয়ে অনেক সুবিধাভোগী উদ্বিগ্নভাবে এদিক-সেদিক বসে আছেন। কেউ কেউ আবার চাল পাওয়া যাবে কি না, তা নিশ্চিত হতে ছুটাছুটি করছেন। ইউনিয়ন পরিষদের মাঠে সুবিধাভোগীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাঁশ দিয়ে সারি তৈরি করা হলেও মাঠ অনেকটাই ফাঁকা দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, আজ ভিজিএফের চাল বিতরণ করার খবর শুনে সকাল থেকেই সুবিধাভোগীরা ইউনিয়ন পরিষদে এসে অপেক্ষা করছিলেন। তবে, বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধের বিষয়টিও তারা লক্ষ্য করেছেন। পরে দুপুরের দিকে মাইকিং করে জানানো হয়, আজ আর চাল বিতরণ করা হবে না এবং পরবর্তী তারিখ পরে জানানো হবে।
রোজা রেখে দিনভর অপেক্ষা করেও চাল না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সুবিধাভোগী রামজীবন ইউনিয়নের বেকাটারী গ্রামের মোছা. শহিদা বেগম (৫৫) বলেন, ‘আমি স্লিপ পাইছি, চাউল নিতে আসছি। সকাল থেইকা বসে আছি। সারাদিন থাকার পর হঠাৎ কইল আজ আর চাউল দেওয়া হইবো না। কইল পরে মাইকিং কইরা জানাইবো। এইডা কি ভালো লাগার কথা? এখন খালি হাতে বাড়ি যাইতাছি।’
গ্রাম পুলিশ মো. সাজু মিয়া বলেন, ‘আজ ভিজিএফ বিতরণের তারিখ ছিল। চেয়ারম্যান, মেম্বার ও মহিলা মেম্বাররা স্লিপও বিতরণ করেছেন। আমরাও মাল বিতরণ করার জন্য এসেছি। কিন্তু পরে শুনি মাল বিতরণ করা হবে না। কারণ জানতে গিয়ে শুনলাম বিএনপির দলীয় ভাগ নিয়ে একটু সমস্যা হয়েছে।’
রামজীবন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল হুদা সরকার বলেন, ‘এ ইউনিয়নে ৪ হাজার ৬০০ জন উপকারভোগীর জন্য ভিজিএফ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপিকে মোট বরাদ্দের ১০ শতাংশ দেওয়ার নির্দেশ ছিল। সেই অনুযায়ী ৪১০ জনের তালিকা দিতে বলা হয়েছিল। তবে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবুল আহমেদ ও সদস্য সচিব মাহমুদুল ইসলাম প্রামানিক গ্রুপের পক্ষ থেকে রামজীবন ইউনিয়নের আহ্বায়ক আশেক আলী ও সদস্য সচিব মোকছেদ আলীর মাধ্যমে ৪১০ জনের তালিকা দেওয়া হয়। অন্যদিকে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোজহারুল ইসলাম গ্রুপের রুবেল ও এনামুল ১৯০ জনের তালিকা জমা দিয়েছেন। এক সপ্তাহ ধরে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা করে বিএনপিকে দেওয়া ১০ শতাংশ বরাদ্দ বাদ দিয়েই বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে, দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের কারণে পরিস্থিতি অনুকূল না হওয়ায় চাল বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে রোববারের মধ্যে চাল বিতরণ করা হবে।’
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মাহমুদুল ইসলাম প্রামানিক বলেন, ‘এ উপজেলায় বিএনপির মধ্যে কোনো গ্রুপিং নেই। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।’
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘কি কারণে চাল বিতরণ বন্ধ আছে, তা ইউএনও সাহেব ভালো বলতে পারবেন। আমাকে পুলিশ পাঠাতে বলা হয়েছিল, আমি পুলিশ পাঠিয়েছি।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘একটি সমস্যার কারণে চাল বিতরণ বন্ধ রয়েছে। তবে আগামীকাল বিতরণ করার জন্য বলা হয়েছে।’
কী ধরনের সমস্যা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে বিষয়টি জেনে নিতে বলেন।
তবে দিনভর অপেক্ষা করেও সুবিধাভোগীরা চাল না পাওয়ায় ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন ঈফফাত জাহান তুলি।
কেকে/এমএ