মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর       কোনো রোগী যেন চিকিৎসার অভাবে দুর্ভোগে না পড়ে : সমাজকল্যাণমন্ত্রী      রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড়ে ককটেল বিস্ফোরণ      হামে প্রাণ গেল আরও তিন শিশুর, মোট মৃত্যু ৬৮৬      একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      
খোলাকাগজ স্পেশাল
জ্বালানি তেলের সংকটে ঈদযাত্রা ব্যাহতের শঙ্কা
শিপার মাহমুদ
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৮:৫৭ এএম আপডেট: ১৩.০৩.২০২৬ ৯:০২ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

জ্বালানি তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় ঢাকা থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছেন—পাম্প থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ তেল না পাওয়ায় বাসের ট্রিপ কমাতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। ফলে রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতিতে ঈদযাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে রাজধানীর মহাখালী, সায়েদাবাদ ও উত্তরাসহ কয়েকটি বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে—দূরপাল্লার রুটে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম বাস ছেড়ে যাচ্ছে। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের দাবি—সরকার দূরপাল্লার বাসের জন্য ২০০ থেকে ২২০ লিটার জ্বালানি তেল নির্ধারণ করে দিলেও ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে সে পরিমাণ তেল পাওয়া যাচ্ছে না। যার ফলে পরিবহন মালিকরা বাসের ট্রিপ কমাতে বাধ্য হচ্ছেন।

তাদের ভাষ্য—সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রায় ৪০টি রুটে বাস চলাচল করে। আগে একটি রুটেই প্রতিদিন শতাধিক বাস ছেড়ে যেত। বর্তমানে সেখানে মাত্র ৩৫ থেকে ৪০টি বাস চলাচল করছে। বাকি বাসগুলো টার্মিনালেই পড়ে আছে। একইভাবে ঢাকা-সিলেট রুটেও বাস চলাচল কমে গেছে।

বাস চালক আবিদুল বলেন, আগে তাদের পরিবহনের ৭০ থেকে ৮০টি বাস ছেড়ে যেত, এখন যাচ্ছে মাত্র ২৫ থেকে ৩০টি। তিনি বলেন, সায়েদাবাদ থেকে সিলেট যাওয়া-আসায় প্রায় ১৪০ লিটার তেল লাগে। কিন্তু পাম্প থেকে প্রথমে দেওয়া হয় মাত্র ২০ লিটার। অনেক অনুরোধের পর ৩০ লিটার দেওয়া হয়।এরপর পথে পথে বিভিন্ন পাম্পে দাঁড়িয়ে আবার ২০ লিটার করে নিতে হয়। অনেক সময় পাম্প বন্ধ থাকলে খোলা বাজার থেকেও তেল কিনতে হচ্ছে।

বাস চলাচল কমে যাওয়ায় শ্রমিকরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। কাজ না থাকায় অনেকেই বেতন পাচ্ছেন না।

বাস শ্রমিক হেলাল খোকন হাওলাদার বলেন, তেল সংকটের কারণে বাস ছাড়ছে না। ফলে বেতনও পাচ্ছি না। টার্মিনালের হোটেলে বাকি খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। বাড়িতে টাকা পাঠাতে পারছি না। ঈদ সামনে, স্ত্রী-সন্তানরা কেনাকাটার জন্য টাকা চাইছে, দিতে পারছি না।

অন্যদিকে বাস চলাচল কমে যাওয়ায় ঈদযাত্রার টিকিট নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। অনেক পরিবহন কাউন্টার থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। বগুড়া রুটের যাত্রী আকিজ মাহমুদ বলেন, কাউন্টার থেকে জানানো হচ্ছে যাত্রার ঠিক আগে টিকিট বিক্রি করা হবে। কিন্তু ঈদের সময়ের ভিড়ে টিকিট পাওয়া কতটা কঠিন হবে, তা সহজেই বোঝা যায়।

লালমনিরহাটগামী যাত্রী আসলাম বলেন, আগে অনলাইনে না পেলেও কাউন্টারে টিকিট পাওয়া যেত। এবার অনলাইনে অর্ধেক টিকিট ছাড়ার পর মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে। এখন কাউন্টারে গেলে বাড়তি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। তার মতে, সবচেয়ে বড় শঙ্কা হলো বাস আদৌ ছাড়বে কি না।

এদিকে রাজধানীর বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনেই দেখা গেছে একই চিত্র। কোথাও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সামান্য তেল পাওয়া যাচ্ছে, আবার কোথাও পাম্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অনেক পাম্পে আগের রাতেই জ্বালানি শেষ হয়ে গেছে। ফলে মোটরসাইকেল চালক, অফিসগামী মানুষ এবং রাইড শেয়ারিং সেবার চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। কোথাও কোথাও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। জ্বালানি সংকটকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে রাইড শেয়ারিং চালকদের অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও করছেন যাত্রীরা।

তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সংকট প্রকৃত মজুদের ঘাটতির কারণে নয়; বরং নীতিগত ও ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির ফল।

সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল গতকাল বৃহস্পতিবার ধানমন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গুজবের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার প্রবণতা তৈরি হয়। তবে পরবর্তীতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) তড়িঘড়ি করে কঠোর বিপণন নীতিমালা আরোপ করায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

তার অভিযোগ, বিপিসি পাম্পগুলোর জন্য কোটা নির্ধারণ করে গড় উত্তোলনের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কম সরবরাহ করছে। কিন্তু হিসাবের ত্রুটির কারণে বাস্তবে সরবরাহ প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।

তিনি বলেন, ডিপোভিত্তিক দৈনিক কোটা পদ্ধতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে মজুদ থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, দৈনিক কোটার পরিবর্তে সাপ্তাহিক কোটা পদ্ধতি চালু করা হলে সরবরাহ ব্যবস্থার ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হবে।

কেকে/এলএ


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close