জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় পেট্রোলের সংকট কিছুটা কমলেও তীব্র আকার ধারণ করেছে ডিজেলের সংকট। উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত ডিজেল সরবরাহ না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকসহ সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রম পরিচালনায় ডিজেল না পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
রোববার (১৫ মার্চ) উপজেলা জুরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন ডিজেল বিক্রয় কেন্দ্রের পাশাপাশি মেসার্স পরেশ চন্দ্র সাহা ফিলিং স্টেশনেও কয়েকদিন ধরে পেট্রোল ও ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক নেই। অনেক কৃষক ও সেচযন্ত্র মালিক সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজনীয় ডিজেল সংগ্রহ করতে পারছেন না। ফলে জমিতে সময়মতো সেচ দিতে না পারায় বোরো ধানের উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কৃষকরা জানান, বোরো মৌসুমে জমিতে সেচ দিতে ডিজেলের ওপরই বেশি নির্ভর করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে বাজারে পর্যাপ্ত ডিজেল না থাকায় অনেক সেচযন্ত্র বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে কৃষি কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।
উপজেলার কয়েকজন ডিজেল চালিত সেচযন্ত্র মালিক মজিবুর, আক্কাছ আলীসহ আরও কয়েকজন জানান, ধান চাষে আমাদের ডিজেলের প্রয়োজন কিন্তু প্রতিদিনই এসে ফিরে যাচ্ছি পাম্পের লোকজন বলছে ডিজেল নাই, এছাড়া বাজারের দোকানেও ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না, সময় মত ডিজেল না পেলে আমরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হব। ডিজেলের অভাবে আমরা ধান ক্ষেতে পানি দিতে পারতেছিনা।
স্থানীয় কৃষিবিদরা জানান, পেট্রোলের সংকট আগের তুলনায় কিছুটা কমলেও ডিজেলের সংকট এখনো কাটেনি। এ পরিস্থিতিতে কৃষি মৌসুমে কৃষকদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে মেসার্স পরেশ চন্দ্র সাহা ফিলিং স্টেশনে সহকারী ম্যানেজার স্বজন জানান, সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া গতকাল ডিজেল আসছে ১৮ হাজার লিটার ও পেট্রোল ৪ হাজার ৫০০ লিটার কিন্তু গত ১৪ ঘন্টায় মধ্যে এসব ডিজেল ও পেট্রোল শেষ হয়ে গেছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত সরবরাহ বাড়ানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কেকে/ এমএস