কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সদর পৌরসভার বাজার, ভরাসার বাজার, কংশনগরবাজারসহ বিভিন্ন ছোট-বড় বাজারে এখন সুন্দর ও চকচকে হলুদ কলার সমারোহ। তবে এই আকর্ষণীয় রূপের আড়ালে লুকিয়ে আছে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি।
সম্প্রতি কলার কাঁদির কাটা অংশে উজ্জ্বল গোলাপি বা বেগুনি রঙের রাসায়নিকের উপস্থিতি জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অসাধু ব্যবসায়ীরা কলা দ্রুত পাকাতে এবং দীর্ঘক্ষণ সতেজ দেখাতে ইথোফেন বা ক্যালসিয়াম কার্বাইডের পাশাপাশি পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট বা ক্ষতিকর শিল্প-গ্রেড রং ইনজেকশনের মাধ্যমে কাঁদির ভেতরে ঢুকিয়ে দিচ্ছেন।
সাধারণত প্রাকৃতিকভাবে পাকা কলার কাঁদির ভেতরটা সাদাটে হলেও এই বিষাক্ত রঙের প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে যাতে কলার বোঁটা দীর্ঘক্ষণ সবুজ থাকে এবং ক্রেতারা সেটিকে গাছপাকা ও টাটকা মনে করেন। এই কৃত্রিম রঙের প্রভাবে কলার বাইরের আবরণ লোভনীয় দেখালেও তা ভেতরে বিষাক্ত রাসায়নিক ছড়িয়ে দিচ্ছে।
ড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মালেকুল আফতাব ভূইয়া বলেন, ‘কাঁদিতে বা বোঁটায় এই ধরনের কৃত্রিম রঙের উপস্থিতি মানবদেহের জন্য চরম হুমকি। এই বিষাক্ত উপাদানগুলো শরীরে ঢুকলে তাৎক্ষণিকভাবে বমি ভাব, ডায়রিয়া ও পেটে তীব্র ব্যথা হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি লিভার ও কিডনির কার্যক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট করে দিতে পারে।’
‘বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই রাসায়নিকগুলো মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের অপূরণীয় ক্ষতি করে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।’
তিনি জানান, প্রাকৃতিকভাবে পাকা কলায় ছোট ছোট কালো দাগ বা সুগার স্পট থাকে এবং তার সুগন্ধ থাকে প্রখর। কিন্তু রাসায়নিক মিশ্রিত কলা দেখতে নিখুঁত হলেও তা ভেতরে বিষাক্ত। তাই, যদি কলার কাঁদির বোঁটা বা কাটা অংশে অস্বাভাবিক উজ্জ্বল গোলাপি, লালচে বা বেগুনি রং দেখা যায়, তবে সেই কলা কেনা থেকে বিরত থাকা জরুরি।
বাজারের এই বিষাক্ত চাকচিক্য এড়িয়ে সচেতন হওয়াই এখন সুস্থ থাকার একমাত্র পথ।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, উপজেলার বিভিন্ন বাজারের এই খাদ্য নিরাপত্তার সংকট নিরসনে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এখন সময়ের দাবি।
কেকে/এমএ