মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬,
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধান করে সংবিধান সংশোধন কমিটি, বিরোধীদের ওয়াকআউট      তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে, বন্যার শঙ্কা      ৯ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা      সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
ঈদের পোশাক বানাতে ঝিকরগাছায় দর্জি বাড়িতে অর্ডারের চাপ
আফজাল হোসেন চাঁদ, ঝিকরগাছা (যশোর)
প্রকাশ: রোববার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ৫:৫৭ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

নব্বই দশকের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মনির খানের গাওয়া বহুল আলোচিত গান ‘দর্জি বাড়ি চলরে, মন তুই দর্জি বাড়ি চল’—গানটির কথা যেন বাস্তব চিত্র হয়ে উঠেছে ঈদকে সামনে রেখে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকায় নতুন পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে যশোরের ঝিকরগাছার দর্জি বাড়িগুলো।
 
সরেজমিনে ঝিকরগাছা বাজার ও আশপাশের বিভিন্ন মার্কেটের টেইলার্সে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানেই পোশাক তৈরির অর্ডার নেওয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। হাতে থাকা অর্ডার সময়মতো সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন কারিগররা। অনেক দোকানে নতুন করে অর্ডার নেওয়াও বন্ধ হয়েছে। 

ঈদের আগে ক্রেতাদের পোশাক প্রস্তুত করতে অনেক কারিগরকে গভীর রাত পর্যন্ত সেলাই মেশিনে চালিয়ে কাজ করতে দেখা গেছে।

ঈদের আনন্দ শতভাগ উপভোগ করতে নতুন পোশাকের বিকল্প নেই। তাই অনেকেই গজ কাপড় কিনে পছন্দের ডিজাইনের পোশাক বানাতে দর্জি দোকানে ভিড় জমিয়েছেন। বিশেষ করে নারীরা নিজেকে সাজাতে কাপড়ের রং ও নকশা মিলিয়ে গজ কাপড় কেনার পর ছুটছেন দর্জি বাড়িতে। কেউ কিনছেন লেইস, কেউবা পোশাকের সঙ্গে মানানসই করে ওড়না ও সালোয়ারের কাপড় সংগ্রহ করছেন। ফলে ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে দর্জি দোকানগুলোর ব্যস্ততা।

এদিকে পাইকারি কাপড়ের বাজারসহ শহরের বিভিন্ন বিপণীবিতানে দেশি-বিদেশি নানা ধরনের কাপড়ের সমাহার দেখা গেছে। 

গজ কাপড়ের দোকানগুলোতে গিয়ে জানা যায়, এবার তরুণীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে কাতান, সিল্ক জর্জেট, প্রিন্টের জর্জেট, লিলেন, খাদি, অরগেন্ডি, চুমকি ও সুতার কাজের চিকেন জুট কটন কাপড়। এসব কাপড় দিয়ে তৈরি পোশাক ঈদের ফ্যাশনে নতুন মাত্রা যোগ করছে। বিশেষ করে কাতান কাপড় দিয়ে তৈরি পোশাককে অনেকেই গর্জিয়াস হিসেবে বিবেচনা করছেন।
 
ঝিকরগাছা বাজারের পানপট্টি এলাকার আকাশ টেইলার্স অ্যান্ড সুতা ঘরের মহাজন মো. মনিরুল ইসলাম বুলবুল জানান, বাজারে বর্তমানে প্রতি গজ সুতি কাতান কাপড় ৫০০-৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সিনথেটিক কাতান বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৪৫০ টাকায়। জুট কটন কাপড় প্রতি গজ ৪০০-৬০০ টাকা, চিকেন কাপড় ৫৫০-৯০০ টাকা ও অরগেন্ডির ওপর কাজ করা কাপড় ৫০০-৭০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাটিক ও টাইডার সুতি কাপড় প্রতি গজ ৭০-৪০০ টাকা ও জর্জেটের বাটিক কাপড় প্রায় ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

পোশাক তৈরির অর্ডার দিতে আসা গৃহিণী ফারিদা ইয়াসমিন পলি বলেন, ‘আমি নিয়মিত এখান থেকে পোশাক তৈরি করি। এখানকার কারিগরদের সেলাই ভালো ও কাজ নিখুঁত। কয়েক দিন পর ঈদ, তাই পছন্দের ডিজাইনের পোশাক বানাতে আগেভাগেই অর্ডার দিতে এসেছি।’

কাটিং মাস্টার ও মহাজন মো. মনিরুল ইসলাম বুলবুল আরও জানান, সালোয়ার-কামিজ তৈরির মজুরি সাধারণত ৩৫০ টাকা থেকে শুরু হয়ে পোশাকের ডিজাইন ও কাপড়ের ধরন অনুযায়ী বাড়ে। তবে ঈদের সময় অর্ডারের চাপ এতটাই বেশি থাকে যে সময়মতো কাজ শেষ করতে কারিগরদের দিন-রাত পরিশ্রম করতে হয়। 

তিনি আরও জানান, ঈদ সামনে রেখে প্রচুর অর্ডার এসেছে। অনেক দোকানেই নতুন অর্ডার নেওয়া বন্ধ হয়েছে। এখন আগের অর্ডারগুলো সময়মতো শেষ করাই আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। 

সব মিলিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে ঝিকরগাছার দর্জি দোকানগুলোতে এখন ব্যস্ততার চরম সময় পার হচ্ছে। নতুন পোশাক তৈরির এই কর্মচাঞ্চল্যে প্রাণ ফিরে পেয়েছে স্থানীয় টেইলার্সগুলো। কারিগরদের অক্লান্ত পরিশ্রমেই পূর্ণতা পাচ্ছে ঈদের প্রস্তুতি।

কেকে/এসএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  ঝিকরগাছা    ঈদ    দর্জি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close