নারায়ণগঞ্জে আসামি ধরতে গিয়ে রেলওয়ে পুলিশের এসআই মিজান ও পুলিশ কনস্টেবল আরিফ মারধরের শিকার হয়েছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, দুইজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি করার কারণে উত্তেজিত জনতা তাদের উত্তম মধ্যম দিয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) বিকালে শহরের গলাচিপা রেললাইন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকালে নগরীর গলাচিপা রেললাইন এলাকায় পুলিশ সিএনজিতে করে দুইজন ব্যক্তিকে নিয়ে যাচ্ছিল। এসময় তারা পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে তারা সাহায্যের আকুতি জানায়। পরে স্থানীয় একদল তাদেরকে সিএনজি থেকে নামিয়ে পাশের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিয়ে যায়। সেখানে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পরে তারা। সেখানে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পুলিশ সেখান থেকে বেরিয়ে যাবার চেষ্টা শুরু করলে উত্তেজিতরা ‘ভুয়া পুলিশ’ বলে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে এসআই মিজান ও তার সঙ্গে থাকা কনস্টেবল জখম হয়। পরে দৌড়ে সেখান থেকে উভয়ে পালিয়ে যায়।
অন্যদিকে ঘটনার শিকার হাফিজুর রহমান ও রমজান অভিযোগ করেন, বিনাকারণে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ হ্যান্ডক্যাপ পড়িয়ে সিএনজিতে উঠায়। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। পরে তাদের আর্তচিৎকারে লোকজন ছুটে এসে তাদের সিএনজি থেকে নামায়।
হাফিজ ও রমজান শহরের কিল্লারপুল এলাকায় প্রাইম নামের একটি ডাইংয়ে কাজ করেন বলে জানান।
ঢাকা রেলওয়ে থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) জয়নাল আবেদীন জানায়, ‘এসআই মিজান মাদকের একটি অভিযানে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন। বিস্তারিত আমরা খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।’
এ বিষয়ে আহত পুলিশ সদস্য পুলিশের উপপরিদর্শক মিজানের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, ‘মাদকের একটি অভিযানে গিয়ে রেলওয়ের এসআই মিজান কনস্টেবল আরিফকে সঙ্গে নিয়ে দুইজন মাদক বিক্রেতাকে আটক করে। পরে তাদের সহযোগীরা তাদের ছাড়িয়ে নিতে হামলা চালায়।’
কেকে/এজে