মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
তারেক রহমানের নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের ভবিষ্যৎ
ওয়াসিম ফারুক
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ১১:২৮ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বিগত দেড় দশকের ভয়াবহ ফ্যাসিবাদী শাসনের জাঁতাকলে পিষ্ট বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা নিরাময় করাই হওয়া উচিত বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এবং প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের প্রধান লক্ষ্য। ২০০৭ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে বাংলাদেশের ইতিহাসে যে পরিবারটি সবচেয়ে বেশি প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে, সেটি হলো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পরিবার। একইভাবে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিকে দিতে হয়েছে চরম মূল্য। চৌধুরী আলম থেকে ইলিয়াস আলীসহ হাজারো নেতাকর্মী গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন বিগত স্বৈরশাসনামলে। মামলা, জেল-জুলুম আর অমানুষিক নির্যাতনের স্টিমরোলার দলটির ওপর দিয়ে যেভাবে বয়ে গেছে, তা সমকালীন ইতিহাসে বিরল।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে বছরের পর বছর বিদেশের মাটিতে নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়েছে, বঞ্চিত হতে হয়েছে মায়ের স্নেহ আর ভাইয়ের ভালোবাসা থেকে। এমনকি ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে বিদেশের মাটিতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে হয়েছে মা-ভাইসহ প্রায় সব স্বজনদের সান্নিধ্য ছাড়াই। এই ত্যাগের হিসাব কেবল একটি পরিবারের নয়, বরং এটি সমগ্র জাতিকে কোনা কোনাভাবে দিতে হয়েছে, যার দায় শুধু খুনি হাসিনা, তার রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এবং সুযোগসন্ধানী দোসরা।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান যখন এক নতুন গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারমুখী বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাচ্ছে, তখন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করা বিএনপির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সেই শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করা। দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে প্রত্যাশা এটাই যে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনাব তারেক রহমান গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা রক্ষায় আপসহীন ভূমিকা পালন করবেন।

তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, যে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ ছাত্র-জনতা বুক পেতে দিয়েছিল, তাদেরই যদি এখন ক্ষমতার অলিন্দে আশ্রয়-প্রশ্রয় বা পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হয়, তবে তা হবে চব্বিশের বিপ্লবের সঙ্গে এক চরম বিশ্বাসঘাতকতা। রাজনীতির ময়দানে আদর্শিক লড়াই যখন ব্যক্তিস্বার্থ বা ক্ষমতার ভাগাভাগির সমীকরণে পর্যবসিত হয়, তখন জনমনে গভীর সংশয় ও ক্ষোভের জন্ম নেয়।

যারা দীর্ঘ সময় ধরে একটি খুনি ও স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বৌদ্ধিক ও রাজনৈতিক বৈধতা উৎপাদন করে এসেছে, তাদের সঙ্গে যদি বর্তমান সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের সখ্য দৃশ্যমান হয়, তবে তা ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনেরই অশনি সংকেত। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে যারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার পক্ষে সাফাই গেয়েছিল, তাদের এবং বর্তমানের ফ্যাসিবাদের দোসরদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য নেই। উভয় পক্ষই নিজ নিজ সময়ের শোষকদের স্বার্থ রক্ষায় কলম ও কণ্ঠকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে।

বর্তমান সময়ে যারা শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের পক্ষে জনমত গঠন করেছে এবং এখনো সেই প্রেতাত্মাকে ফিরিয়ে আনার স্বপ্নে বিভোর, তাদের পুনর্বাসন যদি খোদ ক্ষমতাসীন শিবির থেকে শুরু হয়, তবে তা গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য নিদারুণ হতাশার কারণ হবে। জনাব তারেক রহমান দীর্ঘ প্রবাস জীবনে ব্রিটিশ রাজনীতির উদারতা ও সহনশীলতার সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন, যা তাকে একজন পরিপক্ব উদার রাজনীতিবিদে পরিণত করেছে। তবে বাংলাদেশের বাস্তবতাকে শুধু ব্রিটিশ চশমায় দেখার সুযোগ নেই।

শেখ হাসিনার দেড় দশকের শাসনামলে সাধারণ মানুষের ওপর ভয়াবহ ঝড় বয়ে গেছে। ফ্যাসিস্ট দোসরদের ব্রিটিশ রাজনৈতিক ধারায় দেখার মানসিকতা বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য নয়। এমন ব্যক্তিদের গুরুত্ব দেওয়া হলে তা হবে বিষবৃক্ষকে পুনরায় পরিচর্যা করার সমতুল্য। তথাকথিত ‘বুদ্ধিজীবী’ শ্রেণি অত্যন্ত বিপজ্জনক, কারণ তারা ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গেই রং বদলে নতুন অবস্থান পোক্ত করতে সিদ্ধহস্ত।

আনিস আলমগীরের মতো বিতর্কিত চরিত্ররা যখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে গুরুত্ব পেতে শুরু করেন, তখন শঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়। সম্প্রতি ঈদের জামাতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময়ের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনিস আলমগীরের অসৌজন্য আচরণ ও পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে দম্ভোক্তি প্রশ্ন তোলে। এই ধরনের ফ্যাসিবাদী ও বিভ্রান্তিকর চরিত্রদের গুরুত্ব দেওয়া হলে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া ক্ষুব্ধ হওয়ারই।

রাষ্ট্র পরিচালনা মানে কেবল সব পক্ষকে খুশি রাখা নয়, বরং নৈতিক ও বিচারিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। যারা খুনিদের হাত শক্তিশালী করেছে, তাদের প্রথম গন্তব্য হওয়া উচিত বিচারের কাঠগড়া। বিচারের বদলে সমাদর করা হলে অপরাধ পুরস্কৃত হবে।

বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন ঠেকানো এখনকার প্রধান জাতীয় দাবি। নেতৃত্বের নীরবতা বা বিতর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্য সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি করছে। জুলাই বিপ্লবের চেতনা শিখিয়েছে যে আপস নয় বরং ন্যায়ের পথে অবিচল থাকা মুক্তির একমাত্র পথ। নেতৃত্বের প্রতিটি পদক্ষেপ শহীদদের রক্তের মাপে পরিমাপ করা হবে।

যদি কোনো রাজনৈতিক শক্তি খুনিদের সহযোগীদের সঙ্গে সখ্য বজায় রাখে, তবে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। দেশের লাখো শহীদ ও চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান সেই রক্তের দায়বদ্ধতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। ফ্যাসিবাদের শেকড় উপড়ে ফেলাই নতুন যুদ্ধের লক্ষ্য, এবং সেই লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হওয়া মানেই দাসত্বের শৃঙ্খলে ফিরে যাওয়া।

জনগণের প্রত্যাশা হলো, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুবিধাবাদী ও ষড়যন্ত্রকারীদের বলয় থেকে বের হয়ে প্রকৃত দেশপ্রেমিক ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করবেন। অন্যথায় ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নির্মম হবে এবং জনরোষ থেকে বাঁচার কোনো বিকল্প থাকবে না।

লেখক : ওয়াসিম ফারুক, কলামিস্ট ও বিশ্লেষক

কেকে/এলএ



আরও সংবাদ   বিষয়:  তারেক রহমান  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close