মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে সুখবর      এবার পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
ঈদযাত্রায় মৃত্যুর মিছিল কাম্য নয়
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ৮:২১ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

প্রতিবছর ঈদ আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশের কোটি মানুষের মনে আনন্দের জোয়ার ওঠে। প্রিয়জনের কাছে ফেরার তাগিদে শহর ছেড়ে গ্রামে ছোটে মানুষ, আবার ছুটি কাটিয়ে কর্মক্ষেত্রে করে প্রত্যাবর্তন। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, এ আনন্দযাত্রাই বারবার পরিণত হচ্ছে মৃত্যুযাত্রায়। সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনার খবর যেন ঈদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে— যা কোনোভাবেই স্বাভাবিক বা মেনে নেওয়ার মতো নয়। 

ঈদকে কেন্দ্র করে বাড়তি চাপ, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, দীর্ঘ যাত্রা, চালকের ক্লান্তি, ফিটনেস ছাড়া গাড়ি, ভাঙাচোরা সড়ক ও দুর্বল তদারকির কারণে প্রতিদিন সড়কে ঘটছে দুর্ঘটনা। এবার ঈদযাত্রায় ১০ দিনে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪০ জনেরও বেশি  মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ৬ শতাধিক মানুষ।  তবে সব থেকে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে। কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়ার মর্মান্তিক সেই ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজন শিশু। এর আগে গত শনিবার ঈদ উল ফিতরের দিন ভোর ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেন ও বাসের সংঘর্ষে মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন আটজন। আরও একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে ১৮ মার্চ সন্ধ্যায়, রাজধানীর সদরঘাটে । দুই লঞ্চের চাপায় দুজন নিহত হয়। 

প্রতিবছরই ঈদযাত্রায় এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা যেন স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।  এ দায় কোনো নির্দিষ্ট একক গোষ্ঠীর নয়। এ দায় কমবেশি যাত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবার ওপর কমবেশি বর্তায়।  প্রথমত প্রতিবছর ঈদযাত্রায় বাসের ছাদে যাত্রী, ট্রেনের বগির বাইরে ঝুলে থাকা মানুষ— এসব দৃশ্য যেন প্রতিবছরের পরিচিত চিত্র। দ্বিতীয়ত, সড়কে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা। অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত গতি এবং ট্রাফিক আইন অমান্য— এসব মিলেই তৈরি করে মৃত্যুফাঁদ। তৃতীয়ত, ব্যবস্থাপনার ঘাটতি। ঈদকে সামনে রেখে যাত্রীচাপ বাড়বে— এটা জানা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি থাকে অপর্যাপ্ত। মহাসড়কে যানজট, টিকিটের কালোবাজারি, নিরাপত্তার অভাব— সবকিছু মিলিয়ে যাত্রা হয়ে ওঠে অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা সেবারও অভাব থাকে, যা মৃত্যুহার আরও বাড়িয়ে দেয়।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব সমস্যা নতুন নয়। বছরের পর বছর একই চিত্র, একই অজুহাত, একই ব্যর্থতা। অথচ প্রতিটি দুর্ঘটনার পেছনে থাকে একটি পরিবার, একটি স্বপ্ন, একটি জীবনের অপূর্ণ গল্প। ঈদের আনন্দ যেখানে হওয়া উচিত মিলনের, সেখানে তা পরিণত হচ্ছে শোকের মাতমে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ। প্রথমত, সড়ক ও পরিবহন খাতে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অদক্ষ চালকদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ জরুরি। দ্বিতীয়ত, যাত্রীচাপ সামাল দিতে বিশেষ ট্রেন, অতিরিক্ত বাস ও নৌযানের সংখ্যা বাড়াতে হবে পরিকল্পিতভাবে। তৃতীয়ত, যাত্রীদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়াতে হবে— ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং নিয়ম মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

ঈদে বাড়ি ফেরা কিংবা কর্মক্ষেত্রে প্রত্যাবর্তন যদি বারবার মৃত্যুর খবরে ম্লান হয়ে যায়, তবে তা আমাদের সমষ্টিগত ব্যর্থতা। তাই এখনই সময়, ঈদযাত্রাকে নিরাপদ করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার। যেন প্রিয়জনের কাছে ফেরার পথ আর কখনো মৃত্যুর পথে পরিণত না হয়।

কেকে/এসএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  ঈদ   দুর্ঘটনা   
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close