বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় তিনটি ট্রাক ও একটি যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলমাস (৫৫) নামের এক ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হন, যাদের মধ্যে আলমাসের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।
রোববার (২৯ মার্চ) ভোর ৬টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
শনিবার (২৮ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের কবরস্থান সংলগ্ন ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আলমাস সাভার থানার দেওয়ানবাড়ি পাঁচগাছিয়া এলাকার মৃত আবু বাসের মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়কের ওপর একটি খালি ট্রাক ঘোরানোর চেষ্টা করছিলেন হেলপার। এ সময় ঢাকাগামী আলুবোঝাই ‘রিজভী পরিবহন’ নামের একটি ট্রাক দুর্ঘটনা এড়ানোর চেষ্টা করলে পেছন থেকে আসা ‘সবুরা পরিবহন’ নামের অপর একটি আলুবোঝাই ট্রাক সেটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে রিজভী পরিবহনের ট্রাকটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তেই পেছন থেকে আসা ঢাকাগামী ‘এসআই পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিলে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ১৫ জনকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠান। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়ির ভেতর আটকে থাকা আলমাসকে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রোববার ভোর ৬টার দিকে তিনি মারা যান।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রইচ উদ্দিন বলেন, ‘‘আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’’
কেকে/এসএ