আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নে দেদারসে তিন ফসলি কৃষিজমি ভরাট করছে মাতৃভূমি গ্রুপের ‘মাতৃভূমি সিটি’ নামের হাউজিং প্রতিষ্ঠান। ‘কৃষি জমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইন’ অনুযায়ী কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তন দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও, বাস্তবে দিন-রাত সমানতালে চলছে বালু ভরাটের কাজ। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে রহস্যজনক নীরবতার অভিযোগ।
সরেজমিন দেখা গেছে, একসময়য়ের উর্বর তিন ফসলি জমি এখন বালুর স্তূপে পরিণত হয়েছে। কৃষিজমি ভরাট করে সেখানে আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাউজিং কোম্পানির সাইনবোর্ড টাঙিয়ে কৃষকদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে জমি দখলের অপচেষ্টা চলছে। এতে করে কৃষি উৎপাদন কমার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, বর্ষা মৌসুমে জমিতে পানি আসার আগেই বালু ফেলে জমিগুলো চাষের অনুপযোগী করে ফেলা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন, “চারদিকে বালু ফেলার কারণে আমাদের জমিতে পানি ঢোকা-বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আমরা বাধ্য হয়ে জমি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।”
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট হাউজিং কোম্পানি। রাতের আঁধারে ড্রাম ট্রাকযোগে চলছে বালু ফেলার কাজ।
পরিবেশবিদদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে কৃষিজমি ভরাটের ফলে ভবিষ্যতে খাদ্য সংকটের পাশাপাশি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া জমির শ্রেণি পরিবর্তন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও এখানে তা মানা হচ্ছে না।
এ বিষয়ে স্থানীয় ভূমি অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, খবর পেয়ে মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং জরিমানাও করা হয়েছে। তবে জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত নজরদারি সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের নাকের ডগায় দীর্ঘদিন ধরে এমন কার্যক্রম চললেও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
জানতে চাইলে মাতৃভূমি সিটির অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট ম্যানেজার হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা ডিসি অফিস বরাবর শ্রেণি পরিবর্তন করার জন্য আবেদন করেছি।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ শুভ্র বলেন, “কৃষিজমি রক্ষায় আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। মাতৃভূমি সিটি তিন ফসলি জমি ভরাট করছে—এ তথ্য সঠিক। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমপা ঘোষ বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রতিনিধিদের ডেকে বৈধ কাগজপত্র দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখনো তারা কোনো কাগজপত্র জমা দেয়নি। বৈধতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এমএ