বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মতিয়ার রহমান (৬৯) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে শেরপুর থানায় ১২ জন নামীয়সহ অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
শনিবার (২৮ মার্চ) মতিয়ার রহমান মারা যান।
এর আগে, গত ২২ মার্চ সকালে উপজেলার শরিফ সুঘাট তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫ বছর আগে নিহতের ভাতিজি মোমেনা খাতুনের নিকট হতে প্রতিবেশী বেলি বেগম জমি দেওয়ার কথা বলে ৭৫ হাজার টাকা ধার দেন। দীর্ঘদিন পার হলেও বেলি বেগম জমি বা টাকা কোনোটিই ফেরত দিচ্ছিলেন না। এ নিয়ে গত ২১ মার্চ উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও গালিগালাজের ঘটনা ঘটে।
গত ২২ মার্চ সকাল ১১টার দিকে শরিফ সুঘাট এলাকায় মতিয়ার রহমানকে একা পেয়ে অভিযুক্তরা দেশিয় অস্ত্র ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মামলার ৭ নম্বর আসামির হুকুমে ১ নম্বর আসামি মো. শাহিন বাঁশের লাঠি দিয়ে মতিয়ার রহমানের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। ২ নম্বর আসামি মো. রুবেলের আঘাতে বৃদ্ধের ডান পা ভেঙে যায়। অন্য আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম করে।
হামলায় বৃদ্ধের সামনের তিনটি দাঁত ভেঙে যায় এবং তার পকেটে থাকা নগদ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আহত মতিয়ার রহমানকে প্রথমে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে বাড়িতে নেওয়া হয়। তবে গত শনিবার আবারও তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পুনরায় বগুড়া শহরে নেওয়ার পথে দুপুর ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মঈনুদ্দিন বলেন, ‘অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত ও আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
কেকে/এমএ