কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের জাউচপাড়া গ্রামের কৃষক রিদুয়ানুল করিম মিন্টু (৩৮) অপহরণের দুইদিন পর ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তিনি নিজ বাড়িতে ফেরেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত রোববার (২৯ মার্চ) রাতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের লতাবনিয়া উঠুনি এলাকা থেকে অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা তাকে অপহরণ করে। সীমান্তবর্তী লংগদুরমুখ এলাকায় তামাক ও সবজি চাষাবাদ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তিনি অপহরণের শিকার হন।
মুক্ত হয়ে বাড়িতে ফিরে ভুক্তভোগী রিদুয়ানুল করিম মিন্টু বলেন, ‘৫ জন বাঙালি ও ৪ জন পাহাড়ি সন্ত্রাসী মিলে আমাকে অপহরণ করে। পরে পাহাড়ি এলাকায় শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে। এ সময় আমাকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়। প্রথমে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করলেও পরে দরকষাকষির মাধ্যমে ৮ লাখ টাকায় আমাকে ছেড়ে দেয়।’
তিনি আরও জানান, অপহরণকারীদের মধ্যে কয়েকজনকে তিনি শনাক্ত করতে পেরেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
মিন্টুর স্বজনরা জানান, অপহরণের পর মুক্তিপণের টাকা জোগাড় করতে পরিবারের সদস্যদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
ভুক্তভোগীর বোনের স্বামী ছুরুত আলম বলেন, ‘আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার করা এবং ঘরের স্বর্ণালংকার বিক্রি করে ৮ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়। পরে অপহরণকারীদের কাছে টাকা পৌঁছে দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’
এ বিষয়ে গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি তাকে দেখতে গিয়েছি। বর্তমানে তিনি সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন। তবে তার শরীরে মারধরের চিহ্ন এবং পায়ে ছুরিকাঘাতের ছোট দাগ দেখা গেছে। গতকাল রাত ৮টার দিকে মুক্তিপণ দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।
কেকে/ এমএস