সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬,
১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না : ট্রাম্প      নতুন নীতিমালায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চালু      মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ      ঢাবিতে ভর্তি আবেদন ১১ নভেম্বর থেকে, পরীক্ষা শুরু ৫ ডিসেম্বর      সব বেসরকারি দাখিল-আলিম মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটি বাতিল      ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৭০ টাকা      ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু      
খোলাকাগজ স্পেশাল
সড়কে চাঁদাবাজিতে ওসির ভাগ দুই লাখ
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৬ পিএম
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানার বিভিন্ন সড়কে গাছ, বাঁশ, বালু ও মাটি পরিবহনের ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি যেন অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে- এমন অভিযোগ উঠেছে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে। এসব চাঁদাবাজির মূল হোতা হিসেবে পরিচিত ওসির আস্থাভাজন পুলিশের কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ পাইন্দং এলাকার বাসিন্দা মো. সাদ্দাম হোসেন। 

চালকদের দাবি, পুলিশি হয়রানি এড়াতে বাধ্য হয়েই নিয়মিত চাঁদা দিতে হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে সাদ্দাম পুলিশের অধীনে মাসিক বেতনে কাজ করতেন। পরবর্তীতে ওসির ‘লাইন’ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এলে তার সঙ্গে মাসিক ২ লাখ টাকায় একটি অলিখিত চুক্তি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। 

সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন পরিবহন থেকে আদায় করা চাঁদার অংশ প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে ওসিকে দিতে হয়। এমন একটি ভিডিও স্বীকারোক্তিও সংরক্ষিত আছে। এ ছাড়া প্রশাসনের বিভিন্ন ব্যক্তি, কিছু সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাকেও মাসোয়ারা দেওয়া হয়। সাদ্দামের দাবি, পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হয় ফটিকছড়ি থানার ওসি মুহাম্মদ সেলিমের তত্ত্বাবধানে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কসহ পাইন্দং-কাঞ্চননগর, ফটিকছড়ি-হেয়াকো, পেলাগাজী-বারৈয়ারঢালা এবং লেলাং-রাঙামাটিয়া সড়কে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক গাছ, বাঁশ, বালু ও মাটিবাহী যান চলাচল করে। এসব যান থেকে গাড়িপ্রতি প্রায় ১ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হয়। পাশাপাশি মাটি কাটা, জায়গা ভরাট ও বালু উত্তোলনের প্রতিটি স্পট থেকে মাসে ৫ হাজার টাকা করে আদায় করা হয় ‘ওসির লাইন’ হিসেবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি মাসে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা উত্তোলন করা হয়। এর মধ্যে ২ লাখ টাকা ওসিকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া থানার সেকেন্ড অফিসার, চালক ও অন্য সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও এই অর্থ বণ্টন করা হয়। বন বিভাগ, টহল টিম, ও কিছু সাংবাদিকের কাছেও ভিন্ন অঙ্কের অর্থ পৌঁছায়।

চাঁদা আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘ওসির নামে সড়কের ‘লাইন’ আমাকে পরিচালনা করতে হয়। আগে মাসিক বেতনে কাজ করতাম। এখন উভয় সংকটে আছি-কাজটি ছাড়তেও পারছি না, আবার রাখতে গেলেও নানা ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ড্রামট্রাক চালক বলেন, ‘মাটি পরিবহনের কাজ শুরু করার আগেই গাড়িপ্রতি ৫০০ টাকা দিয়ে ‘লাইন’ নিতে হয়। তা না হলে পুলিশ গাড়ি আটক করে, পরে জরিমানা দিয়ে ছাড়াতে হয়।’

কাঞ্চননগরের গাছ ব্যবসায়ী আবছার বলেন, ‘সেগুন গাছের গাড়িপ্রতি ১ হাজার টাকা এবং অন্যান্য গাছের জন্য ৭০০ টাকা করে দিতে হয়।’

সর্তাখাল এলাকার একটি বালুমহলের ম্যানেজার খোকন দে বলেন, ‘বৈধ বালুমহল হলেও মেশিনে বালু উত্তোলনের কারণে মাসে ৫ হাজার টাকা করে দিতে হয়।’

অন্য এক ইজারাদার জানান, ‘ওসির টাকা দিতে দেরি হলে পুলিশ পাঠানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই অর্থ দিতে হচ্ছে।’

এ বিষয়ে ফটিকছড়ি থানার ওসি মুহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘লাইন থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। সাদ্দামকে আমি চিনিও না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  সড়ক   চাঁদাবাজি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close