মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অভিযান চালিয়ে ব্যবহৃত প্রাইভেট কার, সরঞ্জাম ও দেশীয় অস্ত্রসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার আখানগীরী গ্রামের কালেকা বাজার এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) নির্দেশনায় এসআই জাকির হোসেন রুবেল সঙ্গীয় ফোর্সসহ আখানগীরী গ্রামের কালেকা বাজার এলাকায় অভিযান চালান। ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্র পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতদল পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ থানার বিরাট হাসামপুর গ্রামের সেলিম মিয়া ওরফে হেলিম মিয়া ওরফে ছিকন আলী (৩৫), মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানার উত্তর পাচাউন গ্রামের শাহ ইকবাল হোসেন ওরফে শাহ পরান ওরফে রূপন মিয়া (৩৭), মৌলভীবাজার সদর থানার শ্রীরাইনগর গ্রামের মবিল খান (৪৮), সিলেট জেলার বালাগঞ্জ থানার নসিয়ারপুর গ্রামের শাহেদ মিয়া (২৬) ও মৌলভীবাজার সদর থানার পতন শাহবন্দর গ্রামের মো. অভি (২৪)।
অভিযানকালে তাদের ব্যবহৃত প্রাইভেট কার ও গাড়ির ভেতর থেকে কাটার মেশিন, ধারালো দা, চাকু, লোহার পাইপ, বাঁশের লাঠি ও প্রায় ২৫ ফুট দীর্ঘ একটি রশি উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।
মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘‘প্রাথমিক তদন্ত ও থানার রেকর্ড পর্যালোচনায় আটককৃতরা একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির সাথে জড়িত।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘গ্রেপ্তারকৃত শাহ ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সিলেট জেলায় চুরি, নারী নির্যাতনসহ ১১টি মামলা রয়েছে। সেলিম মিয়ার বিরুদ্ধে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় চুরি ও ডাকাতিসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে। মবিল খান ও শাহেদ মিয়ার বিরুদ্ধেও একাধিক চুরির মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।’’
এ ঘটনায় এসআই জাকির হোসেন রুবেল বাদী হয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
কেকে/এসএ