ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা অংশের কাঠেরপুলে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতা। প্রায় এক ঘন্টা অবরোধের পর স্থানীয় সাংসদের হস্তক্ষেপে মহাসড়ক থেকে সরে দাঁড়ায় স্থানীয়রা। পরে পুলিশের সহযোগিতায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে চান্দিনার কাঠেরপুল এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে চান্দিনা ও দেবীদ্বার উপজেলার কয়েক গ্রামের মানুষ।
অবরোধের ফলে মহাসড়কের ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী উভয় পাশে অন্তত ৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে দুপুর ১টায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সাংসদ আতিকুল আলম শাওন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হকসহ উপজেলা প্রশাসন, থানা ও হাইওয়ে পুলিশ। এ সময় মহাসড়ক অবরোধের বিষয়ে উত্তেজিত জনতার কথা শুনেন তারা। সাংসদ ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলে মহাসড়ক থেকে সরে যান আন্দোলনকারীরা।
হাইওয়ে পুলিশ ময়নামতি থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) আব্দুল মবিন বলেন, ‘দুপুর ১টায় অবরোধ তুলে নিলে হাইওয়ে পুুলিশের প্রচেষ্টায় যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। এক ঘন্টার যানজটের ফলে যান চলাচলে কিছুটা ধীর গতি রয়েছে। তবে এক ঘন্টার মধ্যে সেটাও স্বাভাবিক হবে।’
এর আগে, বুধবার (১ এপ্রিল) ওই স্থানে মহাসড়ক পারাপারের সময় লরি চাপায় প্রাণ হারায় চান্দিনার বড়গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেশির ছাত্র ইবনে তাইম। ওই ঘটনার পর শুক্রবার (৩ এপ্রিল) কাঠেরপুল এলাকায় মানববন্ধন করেন চান্দিনা ও দেবীদ্বার উপজেলার সাতটি গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
আন্দোলনকারী চান্দিনার রারিরচর গ্রামের বাসিন্দা আসাদুজ্জামান রাসেল বলেন, ‘মহাসড়কের কাঠেরপুলের অংশের একপাশে দেবীদ্বার উপজেলা এবং অপর পাশে চান্দিনা উপজেলা। দেবীদ্বার উপজেলার অন্তত ৫টি গ্রামের মানুষ ওই অংশটি অতিক্রম করে প্রতিদিন চান্দিনা বাজার ও স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে। এছাড়া চান্দিনার রারিরচর ও গোবিন্দপুর গ্রামের মানুষও বেশিরভাগ ওই অংশ দিয়ে মহাসড়ক অতিক্রম করে। গত তিন বছরে ওই স্থানে চারজন স্কুল শিক্ষার্থীসহ অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। দ্রুত ওই স্থানে ফুটওভারব্রিজ, ইউলুপ বা আন্ডারপাস তৈরি স্থানীয় সমাধান করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
আতিকুল আলম শাওন বলেন, ‘মহাসড়কের কাঠেরপুল এলাকায় একটি ইউলুপ দরকার। তবে সেটি সময় সাপেক্ষ। আমরা চেষ্টা করবো দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে।’
কেকে/এমএ