সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬,
১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ      ঢাবিতে ভর্তি আবেদন ১১ নভেম্বর থেকে, পরীক্ষা শুরু ৫ ডিসেম্বর      সব বেসরকারি দাখিল-আলিম মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটি বাতিল      ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৭০ টাকা      ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু      দুবাইয়ের জেল থেকে মুক্তি পেলেন বেনজীর      ঢাকার চারপাশের নৌ-পথ সচলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
হাম নিয়ন্ত্রণে প্রাইমারি হেলথ কেয়ারে জোর দিন
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫৭ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বাংলাদেশে হাম কোনো অচেনা রোগ নয়। দীর্ঘদিন নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির ফলে এ রোগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে প্রতিরোধব্যবস্থায় দুর্বলতা তৈরি হলে একটি নিয়ন্ত্রিত রোগও দ্রুত জনস্বাস্থ্যের বড় সংকটে রূপ নিতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ি বিশ্বে হাম আবার বাড়ছে। তবে বাংলাদেশে যে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক শিশু আক্রান্ত হচ্ছে এবং মৃত্যুর ঘটনাও বাড়ছে, তা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের মাঝামাঝি থেকে অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েক হাজার শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে গেছে এবং মৃত্যুর ঘটনাও শতাধিক ছাড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতি আমাদের টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। 

হামের সংক্রমণ বাড়ার পেছনে টিকাদানের হার কমে যাওয়াই বড় কারণ। কয়েক বছর আগেও দেশে হামের টিকা কাভারেজ প্রায় ৯০ শতাংশ ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অথচ এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা জরুরি। টিকাদানের এই ঘাটতি শিশুদের মধ্যে একটি বড় ইমিউনিটি গ্যাপ তৈরি করেছে। ফলে টিকাদানের বয়সের আগেই অনেক শিশু সংক্রমিত হচ্ছে এবং জটিলতায় পড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে সরকার জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ ক্যাম্পেইনের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে শুধু বিশেষ ক্যাম্পেইন দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিকে শক্তিশালী করা এবং কোনো শিশু যাতে টিকা থেকে বাদ না পড়ে তা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান কাজ।

মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতাও এখানে বড় ভূমিকা রেখেছে। টিকাদান কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত বহু স্বাস্থ্য সহকারীর পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। অনেক এলাকায় একজন কর্মীকে কয়েকটি ব্লকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। আবার অনেক মাঠকর্মী বেতন-ভাতা না পাওয়ার কারণে কাজের গতি কমে গেছে। এসব সমস্যা সমাধান না করলে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিও প্রত্যাশিত ফল দেবে না। দ্রুত জনবল ঘাটতি পূরণ, কর্মীদের প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করা এবং মাঠপর্যায়ের ব্যবস্থাপনাকে সক্রিয় করা জরুরি।

হামের সংক্রমণ থেকে মৃত্যু বাড়ার আরেকটি কারণ হলো শিশুদের অপুষ্টি এবং চিকিৎসা সুবিধার সীমাবদ্ধতা। অনেক ক্ষেত্রে হাম থেকে নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা তৈরি হয়, যার চিকিৎসায় অক্সিজেন বা আইসিইউ প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু দেশের অনেক হাসপাতালে এ ধরনের সুবিধা পর্যাপ্ত নয়। ফলে প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ থেকেও শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে। দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য কমিউনিটি পর্যায়ে আলাদা সেবা, পুষ্টি সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যব্যবস্থার কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও এখানে সামনে এসেছে। বড় হাসপাতালকেন্দ্রিক ব্যবস্থা রোগীর চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে, অথচ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো পর্যাপ্ত শক্তিশালী নয়। আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বড় হাসপাতালের সঙ্গে বহু প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সমন্বিত কাঠামো থাকে। এ ধরনের ব্যবস্থা গড়ে উঠলে রোগের প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। তাই সারা দেশে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র বাড়ানো এবং কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে কার্যকর করা জরুরি।

হামের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা দুর্বল হতে দিলে তার ক্ষতি যে কত ভয়াবহ তা কিন্ত শতাধিক শিশুর মৃত্যুতে স্পষ্ট। তাই এখন প্রয়োজন দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ। টিকাদান কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া, মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমেই এ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close