গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় জ্বালানি সংকট ঘিরে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। যদিও বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে, তবুও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হওয়ায় চালকদের আয় কমে গেছে আশঙ্কাজনকভাবে।
চালকদের অভিযোগ, আগে যেখানে প্রতিদিন ১২০০-১৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় হতো, বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ২০০-৩০০ টাকায়। তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে দিনের বড় একটি অংশ লাইনে দাঁড়িয়ে কাটাতে হচ্ছে।
আমরাইদ এলাকার মোটরসাইকেল চালক সোহেল মিয়া বলেন, ‘তেল পাওয়া যায় ঠিকই, কিন্তু লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে অর্ধেক দিন শেষ হয়ে যায়। আগে দিনে অনেক ট্রিপ দিতাম, এখন ২-৩টার বেশি পারি না।’
চালক জাকির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের কাপাসিয়ার স্থানীয় চালকদের চেয়ে বাইরের অপরিচিত চালকদের ভিড় বেশি। তারা এসে লাইনে দাঁড়ায়, এতে আমরা স্থানীয়রা আরও বেশি ভোগান্তিতে পড়ছি।’
বীরউজলী এলাকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকি, কিন্তু কখন তেল পাবো তা নিশ্চিত না। অনেক সময় দাঁড়িয়ে থেকেও ফিরে যেতে হয়। এতে সময়ও নষ্ট হচ্ছে, আয়ও কমে যাচ্ছে।’
সরেজমিনে দেখা গেছে, আমরাইদ মোল্লা ফিলিং স্টেশনসহ উপজেলার বিভিন্ন পাম্পে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। অতিরিক্ত চাপের কারণে লাইনের গতি ধীর হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন পেট্রোল সরবরাহ করছে।
এ বিষয়ে আমরাইদ মোল্লা ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, আমরা নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তবে অনেক চালক নিয়ম না মেনে ভিড় করছেন, এতে লাইনের শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। সবাই ধৈর্য ধরে নিয়ম মেনে তেল নিলে এত দীর্ঘ সময় লাগার কথা নয়।
এদিকে উপজেলা প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি চালানো হচ্ছে এবং অনিয়ম রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানাও করা হচ্ছে।
প্রশাসনের এমন উদ্যোগ সত্ত্বেও চালকদের ভোগান্তি পুরোপুরি কমেনি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
স্থানীয়দের মতে, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় চালকদের অগ্রাধিকার এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
মোটরসাইকেল চালকরা দ্রুত কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তারা স্বাভাবিকভাবে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।
কেকে/এমএ