মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬,
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধান করে সংবিধান সংশোধন কমিটি, বিরোধীদের ওয়াকআউট      তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে, বন্যার শঙ্কা      ৯ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা      সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
প্রধান শিক্ষকের অবহেলায় গঙ্গাচড়ায় ভেঙে পড়ছে শিক্ষা ব্যবস্থা
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৫১ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার পূর্ব ইচলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দায়িত্বে অবহেলা, নিয়মিত দেরিতে উপস্থিতি এবং চরম স্বজনপ্রীতির অভিযোগে শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদা বেগম (ময়না) ও তার আপন বোন, সহকারী শিক্ষক মকসুদা বেগমের (পাখি) বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উঠেছে। দুই বোনের এমন কর্মকাণ্ডে স্থানীয়দের কাছে বিদ্যালয়টি ‘ময়না-পাখির বিদ্যালয়’ নামেই পরিচিতি পেয়েছে।

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক প্রায়ই নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে বিদ্যালয়ে আসেন।

অপরদিকে তার বোন সহকারী শিক্ষক হলেও নিয়মিত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। এতে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও উপস্থিত ছিলেন চারজন। অনুপস্থিত ছিলেন সহকারী শিক্ষক মকসুদা বেগম।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক জানান, “তিনি আমার বোন, ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে ছুটিতে রয়েছেন।”

তবে স্থানীয়দের দাবি, এমন অনুপস্থিতি প্রায় নিয়মিত ঘটনা।

শিক্ষা কার্যক্রমের চিত্র আরও হতাশাজনক। বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শাখায় কয়েকজনের নাম তালিকাভুক্ত থাকলেও কোনো শিক্ষার্থী উপস্থিত পাওয়া যায়নি।

প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির উপস্থিতি খাতায়ও কোনো উপস্থিতি লিপিবদ্ধ করা হয়নি। নিয়মিত রোল কল ও পাঠদান কার্যক্রমও ঠিকমতো পরিচালিত হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রধান শিক্ষক বলেন, “আজ কয়েকটি শ্রেণির রোল কল হয়নি, তবে আমরা নিয়মিত রোল কল করে থাকি।”

বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনাও রয়েছে চরম অবহেলায়। অফিস কক্ষ, শ্রেণিকক্ষ, বারান্দা, আঙিনা, সিঁড়ি ও ছাদে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব চোখে পড়ার মতো। রুটিন অনুযায়ী পাঠদান করা হয় না, এমনকি দৈনিক সমাবেশও হয় না।

অবকাঠামোগত দুর্বলতার আরেকটি উদাহরণ দেখা গেছে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে। বিদ্যালয়ে স্থায়ী পতাকাস্তম্ভ না থাকায় বাঁশের সঙ্গে জাতীয় পতাকা বেঁধে মাটিতে স্থাপন করা হয়েছে, যা একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত দৃষ্টিকটূ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

প্রাক-প্রাথমিক স্তরে কোনো শিক্ষার্থী না থাকায় সেখানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, সঠিক পাঠদান না হওয়ায় বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। অনেক শ্রেণিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। ফলে বিদ্যালয়টি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল আমিন বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, এর আগেও প্রধান শিক্ষকসহ সকল শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছিল।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার শায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন, “বিদ্যালয়ে অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তাদের মতে, স্বজনপ্রীতি ও দায়িত্বহীনতার এই চক্র ভাঙা না গেলে বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  গঙ্গাচড়া   শিক্ষা ব্যবস্থা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close